নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তিন দফায় ৩৪ জনকে নিয়োগ দিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। ৯ম ও ১০ম গ্রেডের এসব পদে চাওয়া হয়েছিল ৪ থেকে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে মানা হয়নি এই নিয়ম। এছাড়া তিন বছর আগের বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরেই দেওয়া হয়েছে এসব নিয়োগ।
অভিযোগ রয়েছে, তিন বছর আগে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর বেশিরভাগই অকৃতকার্য প্রার্থীর মধ্য থেকে গোপনে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার মাপকাঠি—কোনটি যাচাই না করে শুধুমাত্র মোটা টাকার লেনদেনের মাধ্যমে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ৫ মে ২৩ জনকে নিয়োগ দিয়েছে কেজিডিসিএল বোর্ড। ওই সময় কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনার পরিচালক (এমডি) ছিলেন প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম। এর মধ্যে সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) পদে একজন, সহকারী ব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) তিনজন; ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল ও কম্পিউটার পদে ১০ জন সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রোগ্রামার পদে একজন, সহকারী ব্যবস্থাপক (মেডিকেল অফিসার) পদে একজন, সহকারী কর্মকর্তা (সাধারণ) পদে তিনজন; ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল এবং কম্পিউটার-আইটি পদে চারজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেয় কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের ২২ জুন উপসহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) পদেও একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এছাড়া সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই আদেশ জারি করে আরও ১০ জনকে একইভাবে ৯ম ও ১০ম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সহকারী ব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পদে দু’জন, ইলেকট্রিক্যাল এবং কম্পিউটার পদে পাঁচজন সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রোগ্রামার পদে একজন, সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) পদে একজন ও উপসহকারী প্রকৌশলী (কম্পিউটার/আইটি) পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৯ জুলাই পত্রিকায় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কেজিডিসিএল। সেখানে ১১৭ জনের এই জনবলের ৯ম ও ১০ম গ্রেডে নিয়োগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি পদে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয় ৪ থেকে ৫ বছর। ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ৯ম গ্রেডের বেতন ধরা হয় ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা পর্যন্ত। আর ১০ম গ্রেডের বেতন স্কেল ধরা হয় ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কেজিডিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন করে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে গোপনে তিন দফায় ৩৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কেজিডিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের এক পরিচালক, এমডিসহ কয়েকজনের সিদ্ধান্তে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে কেউ কোনো প্রতিবাদ করলে তাকে কর্মস্থল পরিবর্তন করাসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করবে ওই চক্র।
কেজিডিসিএলের এমডি মো. রফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘২০২০ সালের পর আর কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ওই নিয়োগে ১১৭ জনের মধ্যে ওই সময় ১০ জন যোগদান করেননি। তার মধ্যে পরবর্তীতে আরও ১৩ জনকে ডাকলে সেখানেও তিনজন ছাড়া বাকিরা যোগদান করেননি।’
এদিকে ২০২০ সালের ওই নিয়োগের ১১৭ জনের মধ্যে সর্বশেষ এমডির হিসাব অনুযায়ী যোগদান করেন ১১০ জন। সেই হিসাব মতে, ওই নিয়োগে বাকি থাকে ৭ জন। কিন্তু এই সাতজনের পরিবর্তে নিয়ম না মেনে তিন দফায় নিয়োগ দেওয়া হয় ৩৪ জনকে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এখানে এভাবেই হচ্ছে। একটি নিয়োগ থেকে লোক নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। যেহেতু ওই নিয়োগের অনেকেই যোগদান করেনি, সেখান থেকে আমরা লোকজন নিয়োগ দিয়েছি। বাড়তি কোনো লোক নেওয়া হয়নি।’
এই বিষয়ে জানতে কেজিডিসিএলের পরিচালনা পষর্দের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোন কল রিসিভ করে ব্যস্ততা দেখিয়ে ৩০ মিনিট পর ফোন করার পরামর্শ দেন প্রতিবেদককে। তার কথা মতো ৩০ মিনিট পর আবারও বক্তব্য জানতে ফোন দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
ডিজে