কাঠগড়ায় চন্দনাইশের জসিম, ঋণখেলাপ ও তথ্য গোপনের অভিযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজার মধ্যেই চট্টগ্রাম-১৪ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন কমিশনে এক আনুষ্ঠানিক আপিল দায়েরের মাধ্যমে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দীনের মনোনয়নের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী ওমর ফারুক। এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের সন্তান ওমর ফারুকের করা এই আবেদনে ঋণখেলাপির তথ্য গোপন, হলফনামায় বিপুল অর্থের অসঙ্গতি এবং হত্যা মামলার তথ্য যথাযথভাবে না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগ

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আপিল আবেদনে ওমর ফারুক উল্লেখ করেন যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ২০২৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দাখিলের সাত দিন আগে স্বীকৃত ব্যাংকের ঋণ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীনের ক্ষেত্রে মনোনয়ন দাখিল ও যাচাইয়ের সময় পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত দায় পরিশোধ হয়নি। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনেও তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করার তথ্য বহাল থাকা সত্ত্বেও তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে যা নির্বাচনী আইনের সরাসরি পরিপন্থী।

নথি সংগ্রহে তড়িঘড়ি ও অস্পষ্টতা

মনোনয়ন যাচাইয়ের নির্ধারিত দিনে জসিম উদ্দীন ঋণ সংক্রান্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির নথি উপস্থাপন করতে পারেননি বলে আপিলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যাচাইয়ের দিন ঢাকার সোনালী ব্যাংক পিএলসি এর মতিঝিল শাখা থেকে চট্টগ্রামে তড়িঘড়ি করে কিছু কাগজপত্র পাঠিয়ে তা গ্রহণের চেষ্টা করা হয়েছিল যা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। ওমর ফারুকের মতে, যাচাইয়ের সময় প্রার্থীর ঋণ সংক্রান্ত অবস্থান প্রশ্নাতীত হতে হয় এবং অন্য কোনো জেলা বা শাখা থেকে শেষ মুহূর্তে আনা আংশিক নথির মাধ্যমে ঋণখেলাপির অবস্থা বৈধ করার সুযোগ নেই।

হলফনামায় বিপুল অর্থের গরমিল

বিএনপি প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামা ও আয়কর নথিতে গুরুতর অসঙ্গতি ও অস্পষ্টতা পরিলক্ষিত হয়েছে বলে আপিলে উল্লেখ করা হয়। জসিম উদ্দীন তার আয়কর রিটার্নে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ প্রদর্শন করলেও সেই অর্থের উৎস স্পষ্ট করেননি। ওমর ফারুকের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা হাতে রাখা দেশের প্রচলিত ব্যাংকিং, বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থপাচার বিরোধী আইনসমূহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব তথ্য গোপন বা অসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা নির্বাচনী আইনের দৃষ্টিতে একটি গুরুতর অপরাধ এবং প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের জন্য যথেষ্ট কারণ।

হত্যা মামলার তথ্য গোপন

আপিলে আরও জানানো হয় যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে যার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত একটি হত্যা মামলাও অন্তর্ভুক্ত। এসব মামলার প্রয়োজনীয় ও বৈধ নথিপত্র মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলে এলডিপি প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিচারাধীন গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত তথ্যের পূর্ণ এবং স্বচ্ছ প্রকাশ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হলেও জসিম উদ্দীন তা পালন করেননি বলে আপিলে বলা হয়েছে।

প্রার্থীর অতীত সংশ্লিষ্টতা ও নিরপেক্ষতা

বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীনের অতীত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পৃক্ততা নিয়েও আপিলে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে বলে ওমর ফারুক উল্লেখ করেন। এ ছাড়াও অতীতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরে আপিলে বলা হয় যে এসব অভিযোগ উপেক্ষা করে মনোনয়ন বহাল থাকলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভোটারদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ksrm