শহীদ ওসমান হাদি হত্যার ন্যায়বিচার, গণমাধ্যমে ধারাবাহিক হামলা, দেশজুড়ে নৈরাজ্য, শ্রমিক দীপুচন্দ্র দাস ও শিশু আয়েশা হত্যার বিচার এবং চট্টগ্রামের রাউজানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম নগরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নগরীতে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও সরকারের ভূমিকা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম-সমন্বয়কারী হাসান মুরাদ শাহ। সঞ্চালনা করেন নির্বাহী সমন্বয়কারী মো. মোরশেদুল আলম।
সমাবেশে বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমি, চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়কারী চিরন্তন চিরু, উত্তর জেলা সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন তালুকদার, নির্বাহী সমন্বয়কারী ইঞ্জি. জাহিদুল আলম, মহানগর সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সাধন দত্ত, মহানগর সদস্য কলি কায়েয, ফয়সাল উদ্দিন নয়ন, মো. জাহেদ হাসান, মো. মামুন, যুব ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন, ছাত্র ফেডারেশনের নেতা তাহমিদুল ইসলাম তামিম, জুলাই যোদ্ধা শওকত ওসমান তৌকির, শাকিব মাহাতাব রামি এবং বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতারা।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দঙ্গলবাজি ও সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা রহস্যজনক ও নীরব। এই নীরবতা নিন্দনীয় ও হতাশাজনক বলে উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, সরকারের এমন অবস্থান থেকে গণমাধ্যমকে আতঙ্কের মধ্যে রেখে সত্য প্রকাশ বন্ধ করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছায়ানট, উদীচী, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। শরিফ ওসমান হাদীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে মানুষ শোকাহত ও বিচারপ্রার্থী থাকলেও একটি সংগঠিত দঙ্গল সেই শোককে পুঁজি করে পরিকল্পিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বক্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁরা বলেন, কোনো হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, তবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে যারা সক্রিয়, তাদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সংখ্যালঘু নিরাপত্তার প্রশ্ন
সমাবেশে রাউজান এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদি, শ্রমিক দীপুচন্দ্র দাস ও শিশু আয়েশাসহ সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। তাঁদের মতে, ন্যায়বিচার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


