ঘুষের টাকায় অঢেল সম্পদ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার, স্ত্রীসহ আসামি দুদকের মামলায়

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সাবেক আলোচিত পেট্রোল পরিদর্শক এবিএম সাহাদাৎ হোসেন মজুমদার এবার স্ত্রীসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই মামলায় আসামি হয়েছেন। সর্বশেষ তিনি সহকারী কমিশনার পদ থেকে অবসরে গেছেন।

সিএমপিতে দীর্ঘদিন একই পদে থেকে ঘুষ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করে তিনি বানিয়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। এসব অর্থে নিজের নামে সম্পদ সংরক্ষণ করা ছাড়াও গড়েছেন স্ত্রীর নামেও। দীর্ঘ সময় অভিযোগ তদন্তে শেষে এবিএম সাহাদাৎ হোসেন মজুমদার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথকভাবে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

রোববার (৭ মে) দুপুরে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক বাদি হয়ে পৃথকভাবে তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন।

s alam president – mobile

এবিএম সাহাদাৎ হোসেন মজুমদার ফেনীর ফুলগাজী থানার আমজাদহাট ইউনিয়নের মোশারফ হোসেন মজুমদারের ছেলে। অপর আসামি হলেন তার স্ত্রীর রাজিয়া সুলতানা চৌধুরী। বর্তমানে পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী চুনা ফ্যাক্টরি রোডের ১১৪৮/সি রোডে বসবাস করছেন এই দম্পতি।

দুদকের তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এবিএম সাহাদাৎ হোসেন মজুমদার দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩৬ টাকার স্থাবর ও ১০ লাখ ৮৬ হাজার ৮০ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ২ কোটি ২৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৬ টাকা সম্পদ অর্জনের তথ্য ঘোষণা দেন। দুদক তার এই সম্পদ যাচাইকালে সর্বমোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৮ টাকা।

পরে দুদকের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণে ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৫২২ টাকার তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য মিথ্যা প্রদান ও ৬৮ লাখ ১৮ হাজার ২৮৭ টাকা জ্ঞাত বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখে অপরাধ করেন সাবেক পুলিশের এই ট্রাফিক কর্মকর্তা।

Yakub Group

দুদক আরও জানায়, এবিএম সাহাদাৎ হোসেন মজুমদারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা আমলে নেওয়া হবে।

জানা গেছে, ১৯৮৫ সালের ২৯ অক্টোবর শুরুতে বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্ট পদে যোগদান করেন এবিএম সাহাদাৎ হোসেন মজুমদার। ২০০৬ সালের ১৬ এপ্রিল পদোন্নতি পেয়ে সর্বপ্রথম পেট্রোল ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদান করেন চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায়। পেট্রোল ইন্সপেক্টর হিসেবে পদোন্নতি পেয়েই সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন ট্রাফিক পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা।

এছাড়া ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দুদকের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে চারতলা ভবন নির্মাণে নিজের অংশে ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও জমি ক্রয় ২ লাখ ৬৩ হাজারসহ মোট ৩৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা সম্পদের তথ্য ঘোষণা প্রদান করেন তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা চৌধুরী।

পরে দুদকের যাচাইকালে তার ২৭ লাখ ১ হাজার ৮০৪ টাকার সম্পদের মিথ্যা তথ্য প্রদান ও ৭৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৮ টাকা জ্ঞাত বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখে অপরাধ করেন। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপপরিচালক (ডিডি) মো. নাজমুচ্ছায়াদাত।

এমএ/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!