চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধারালো অস্ত্রের মহড়া
ক্যালিগ্রাফিতে ‘ছাত্র’ মুছে ‘গুপ্ত’ লেখার জের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ক্যালিগ্রাফির ছবি পোস্ট করা নিয়ে চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। ওই ক্যালিগ্রাফিতে থাকা ‘ছাত্র রাজনীতি’ লেখা অংশে ছাত্রের বদলে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়া হয়। এ ঘটনা দুইপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ধারালো অস্ত্রের কোপে একজনের পায়ের গোড়ালির অর্ধেক কেটে গেছে। ওই ব্যক্তি শিবিরকর্মী বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীর সিটি কলেজ এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় বেশকিছু যুবককে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে। তবে তারা কোনপক্ষের তা নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনার পর আগামীকাল বুধবার সব ধরনের পাঠক্রম বন্ধ রেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, সিটি কলেজে একটি দেয়ালে ক্যালিগ্রাফি করে লেখা হয় ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সেই লেখায় ছাত্রদলের কিছু কর্মী ছাত্র শব্দটি মুছে, এর ওপরে গুপ্ত লিখে দেয়। এটির ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শেয়ার করা হয়। এরপর থেকে শুরু হয় দুইপক্ষের উত্তেজনা। এনিয়ে মঙ্গলবার সকালে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়। পরে বিকাল ৪টার দিকে আবারও দুইপক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসের সংঘর্ষ পরে নিউ মার্কেটে এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
হামলায় দুইপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, এক যুবকের গোড়ালির অংশ অর্ধেক কেটে ঝুলছে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে গিয়ে বসে পড়েন রাস্তায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই যুবক ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে জানা গেছে।
সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দিকী রনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ বিন সাব্বির জানান, কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল হামলা করেছে। এ হামলায় শিবিরের কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছেন।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থালে যায়। সিটি কলেজ শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
আরএ/ডিজে



