চট্টগ্রাম রেলে যাত্রীসেবার আড়ালে ক্যাটারিং কর্মচারীদের টিকিট কালোবাজারি
১৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাত্রীসেবার আড়ালে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িয়ে পড়ছে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। টিকিট দেওয়ার নামে ১৪ জন যাত্রীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে রেল পুলিশের কাছে অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এরপর তাদের ডিউটি বন্ধ করে রাখেন ক্যাটারিংয়ের স্বত্বাধিকারী।
অভিযুক্ত কর্মচারীরা হলেন—মনির হোসেন ও সাজিদ। তারা ট্রেনের ক্যাটারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘হাবিব বাণিজ্য বিতানের’ কর্মচারী। মনির স্টুয়ার্ড ও সাজিদ কোচ ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ স্বপন মিয়া ও জোৎস্না খাতুন পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে নিয়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনের এক্সট্রা ঝ-২ কোচের যাত্রী ছিলেন। ওই কোচে দায়িত্বরত ছিলেন মনির ও সাজিদ। আলাপের এক পর্যায়ে তারা ওই পরিবারকে ফিরতি টিকিট ম্যানেজ করে দিতে পারবে বলে জানান। এরপর ওই পরিবারের সদস্য ২৮ মার্চের কক্সবাজার থেকে ঢাকার টিকিটের জন্য মনির ও সাজিদকে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা দেন। কিন্তু দুইজন মিলে সেই টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যান।
পরে ওই পরিবারের সদস্যরা অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাসের টিকিট কেটে ঢাকায় পৌঁছান। টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা রেল পুলিশ বরাবরে অভিযোগও দেন।
এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে হাবিব বাণিজ্য বিতানের স্বত্বাধিকারী মামুন হোসেনের মুঠোফোনে ভুক্তভোগী যাত্রীরা একাধিকবার কল করলেও কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব পান চট্টগ্রাম রেল পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা আনচারুল করিম। তিনি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের দুইজনকে আটকের চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায়, ক্যাটারিংয়ের পক্ষ থেকে তাদের ডিউটি বন্ধ রাখা হয়।
তিনি বলেন, আমি বদলি হয়ে বর্তমানে সিএমপিতে যোগদান করেছি। বিষয়টি এখন কি হয়েছে জানি না।
হাবিব বাণিজ্য বিতানের স্বত্বাধিকারী মামুন হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নিজেকে মামুন নন বলে দাবি করেন। পরে বাণিজ্যিক দপ্তর থেকে নম্বর সংগ্রহের কথা জানালে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মনির হোসেন ও সাজিদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।
জানা গেছে, নির্দিষ্ট মূল্যে খাবার সরবরাহ করে যাত্রীদের সেবা দেওয়ার জন্য দুই বছরের জন্য চুক্তি বদ্ধ হয় ‘হাবিব বাণিজ্য বিতান’। ২০২৪ সালের ১৭ মে থেকে ২০২৬ সালের ১৬ মে পর্যন্ত দরপত্রের পত্রের এ দায়িত্ব পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মামুন হোসেন। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা উল্লেখ আছে—নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকা। প্রতিষ্ঠানটি কক্সবাজার রুট ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন সোনার বাংলা এক্সপ্রেসেও খাবার সরবরাহ করে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, ট্রেনে সরবরাহ খাবারের দামের সঙ্গে মানে বিস্তর ফারাক রয়েছে। অনেক সময় বাসি খাবারও পরিবেশন করা হয় ট্রেনে।
ডিজে



