চবিছাত্র তরুয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের যুবলীগ নেতা

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্র হৃদয় চন্দ্র তরুয়া হত্যা মামলায় যুবলীগ নেতা মো. এরশাদ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার এরশাদ (৪০) সাবেক কাউন্সিলর এসরারুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও যুবলীগের সদস্য বলে জানা গেছে।

রোববার (৫ জানুয়ারি) মধ্যরাতে রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন শংকর দেওয়ানজীরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার যুবক হৃদয় চন্দ্র তরুয়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও সে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি।

গ্রেপ্তার এরশাদ চট্টগ্রাম চান্দগাঁও থানার উত্তর চান্দগাঁও বেপারি পাড়া শংকর দেওয়ানজীরহাট মিন্নাত আলী সওদাগর বাড়ির মৃত ইব্রাহিমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচি ছিল। ছাত্র-জনতার ওই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে চবি ছাত্র হৃদয় তরুয়া অংশগ্রহণ করে স্লোগান দিতে থাকেন।

জানা গেছে, আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর যুবলীগ কর্মী ও কিশোর গ্যাং লিডার এইচএম মিঠু এবং অন্য আসামিরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচিতে নির্বিচারে গুলি করে। এ ছাড়াও আসামিরা হকিস্টিক, কিরিচ, দা ও লাঠিসোঁটা দিয়ে ছাত্র-জনতাকে পিটিয়ে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এ সময় ভিকটিম হৃদয় চন্দ্র তরুয়া কর্মসূচির স্থান থেকে দৌঁড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করলে মিঠু এবং অন্য দুষ্কৃতকারীরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করলে ভিকটিমের শরীরে লাগে। গুলিবিদ্ধ ভিকটিমকে দুষ্কৃতকারীরা লাঠিসোঁটা, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এবং অন্য ছাত্র-জনতা হৃদয় তরুয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরে পার্কভিউ হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ২৩ জুলাই হৃদয় চন্দ্র তরুয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের বন্ধু আজিজুল হক বাদি হয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর নগরের চান্দগাঁও থানায় ২০৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ মামলায় যুবলীগ সদস্য এরশাদ আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। যদিও এ মামলার বাদিকে নিয়ে এবং আসামি নিয়ে অনেক কথা রয়েছে। বেশ কিছু খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

ডিজে/জেজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm