চাঁদা না পেয়েই চট্টগ্রামের রাউজানের জাহাঙ্গীর আলম নামে শুঁটকি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেন যুবদল নেতা আরফাত মামুন। রাউজান এলাকার ত্রাস মামুন, তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। তার বাহিনীর লোকজন তাকে ‘কিং অব রাউজান’ বলে ডাকতো।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) নগরীর দুই নম্বর গেটের জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সংম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।
এর আগে বুধবার (৫ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীবুল্লাহ পাড়ায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আরাফাত মামুন ও তার সহযোগী বিপ্লব বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার যুবদল নেতা আরফাত মামুন (৪৯) রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গরীবুল্লাহ পাড়া আবু আহমেদের ছেলে। আর বিপ্লব বড়ুয়া উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের হোয়ারাপাড়া গ্রামের তেজন্দ্র লাল বড়ুয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আসাদ আলী মাতব্বর পাড়ায় জুমার নামাজ আদায় ও বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে আসার পথে চাক্তাইয়ের শুঁটকি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ১০ দিন পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিহতের ছেলে মো. মাকসুদ আলম বাদি হয়ে ২৫/৩০ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে এ মামলায় রমজান আলী ও গিয়াস উদ্দিন নামে দুজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে। তবে এখনও এ হত্যাকাণ্ডের কোনো রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি।
রাউজানের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হত্যার প্রধান আসামি মামুন সম্পর্কে এসপি সাইফুল ইসলাম সন্তু বলেন, মামুনের নামে বেশ কিছু মামলা রয়েছে। মামুন হচ্ছে রাউজান এলাকার ত্রাস। তার বাহিনীর লোকজন তাকে ‘কিং অব রাউজান’ বলে ডাকতো। রাউজানের সম্রাট হওয়ার তার একটা উদগ্র বাসনা ছিল।
চাঁদার জন্যেই ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে খুন করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ভিকটিম খাতুনগঞ্জের একজন শুঁটকি ব্যবসায়ী ছিলেন। আমরা যতদূর জানি, তার কাছে চাঁদা চেয়েছিল আসামিরা। চাঁদা না পেয়ে উনি যখন নামাজে যাচ্ছিলেন তখন মোটরসাইকেলে করে পেছন থেকে তাকে গুলি করা হয়। চাঁদার অ্যামাউন্টটা পারিবারিকভাবে আমাদের ওইভাবে জানানো হয়নি। পরিবারও জানতো না টাকার অঙ্কের বিষয়ে।
গত ৪ মার্চ দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বাগোয়ান ইউনিয়নের গরিবউল্লাহপাড়ার একটি বাড়ি থেকে আরাফাত মামুন ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামুনের সহযোগীর নাম বিপ্লব বড়ুয়া (৩৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি করে রামদা, দেশিয় এলজি ও বিদেশি রিভলবার, ৫ রাউন্ড গুলি ও ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি জুমার নামাজ পড়তে শহরের চান্দগাঁওয়ের বাসা থেকে গ্রামের বাড়ি নোয়াপাড়ায় যান জাহাঙ্গীর আলম। ওই দিনই ১৭ দিন ব্যবসার কাজে মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে দেশে ফিরেছিলেন। মোটরসাইকেলে করে মসজিদে যাওয়ার পথে বাড়ির অদূরে আসাদ আলী মাতব্বর পাড়া জামে মসজিদের কিছু আগে সন্ত্রাসীরা তার পথ আটকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় মসজিদের মুসল্লিরা বের হলে তাদেরও লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে এলাকার লোকজন তাদের উদ্ধার করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আব্বাস উদ্দিন নামে এক যুবকও গুলিবিদ্ধ হন।
আইএমই/ডিজে