ট্রাইব্যুনালে ফজলে করিমের মামলায় ‘মুনিরীয়া’র ছায়া, সামনে এলো ঘুষ ও চাপের অভিযোগ
আগে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মান, এখন ফাঁসির দাবি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাকে মামলায় ‘ফাঁসাতে’ রাউজানভিত্তিক ধর্মীয় সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির কাছ থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট অন্তত একজন কর্মকর্তা ঘুষ নিয়েছেন। এমনকি তদন্তে প্রভাব ফেলতে এবং চার্জশিটের ধরন বদলাতে আর্থিক লেনদেনের কথাও আলোচনায় এসেছে বলে দাবি করেছে ফজলে করিমের পরিবার।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বলা হয়েছিল যেন ফজলে করিম চৌধুরী ও তার ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীর নাম রেখে বাকি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে ট্রাইব্যুনাল এই প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়ে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপরই আসামিদের নাম সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার জন্য এক কোটি টাকার নতুন দাবি সামনে আসে।

ফজলে করিমের পরিবার জানায়, গত বছরের শেষ দিক থেকে তার সাবেক স্ত্রী ও আইনজীবী ব্যারিস্টার রিজওয়ানা ইউসুফ এবং দুই ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী ও ফারহান করিম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিক প্রসিকিউটরের গোপন ফোনালাপ হয়। গত কয়েক মাস ধরে এসব ফোনকল তারা রেকর্ড করে রাখছিলেন।

পরিবারের দাবি, এসব ফোনালাপের একটিতে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি পাওয়া প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার আইসিটির একজন তদন্ত কর্মকর্তাকে টাকা দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ওই তদন্ত কর্মকর্তা ফজলে করিম চৌধুরীর বিচারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসা ধর্মীয় সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান থাকলেও ফজলে করিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে মুনিরীয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সক্রিয়তা দেখা গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মুনিরীয়ার পরিচয় ও বিতর্ক
চট্টগ্রামের রাউজানভিত্তিক মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি নিজেদের গাউছুল আজম দরবার শরীফভিত্তিক একটি অরাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রূহানী জাগরণ, সুন্নাত প্রচার এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করে। মধ্যপ্রাচ্য ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে তাদের শাখা রয়েছে। সদস্যদের মাসিক চাঁদা, অনুদান এবং প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তা সংগঠনটির প্রধান আয়ের উৎস। চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির কয়েক শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যেখান থেকে ভাড়া ও অন্যান্য খাতে উল্লেখযোগ্য আয় আসে।
তবে সংগঠনটির বিরোধীদের দাবি, ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে পরিচিত হলেও তারা উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ড এবং ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকার আরেফিন নগরে জোর করে জায়গা দখল ও বাসিন্দাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে সংগঠনটির বিরুদ্ধে।
সম্পর্কের উত্থান–পতন
২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তখন তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ক্রেস্ট প্রদান করেন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির বিভিন্ন বিভাগের সম্পাদক ও সদস্যরা। ওই সময় তারা তাকে ‘পিংক, গ্রিন, ক্লিন উপজেলা ও আধুনিক রাউজানের প্রবক্তা’, ‘রাউজানবাসীর পরম বন্ধু’, ‘উন্নয়নের কান্ডারি’, ‘গণমানুষের নেতা’ এবং ‘চট্টগ্রামের বীরপুরুষ’ হিসেবে আখ্যা দেন। একই বছর কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এমএ মাদরাসার সালানা জলসায় প্রধান অতিথি হিসেবেও উপস্থিত ছিলেন তিনি।
কিন্তু ২০১৯ সালে কয়েকটি ঘটনার জেরে ফজলে করিমের সঙ্গে সংগঠনটির নেতাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রাউজানের স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করেন, অরাজনৈতিক সংগঠনের আড়ালে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা কাগতিয়ার পীর মাওলানা মুনির উল্লাহকে গ্রেপ্তার এবং সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার দাবিও তোলেন। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগ পর্যন্ত সংগঠনটির নেতাকর্মীরা কোণঠাসা অবস্থায় ছিলেন। সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি মামলা হয়, যার মধ্যে দুটি মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সংগঠনের সভাপতি ও কাগতিয়া দরবারের পীর মাওলানা মুনির উল্লাহকে। ওই সময় নির্যাতন বন্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও চেয়েছিল সংগঠনটি।
সংগঠনটির মহাসচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘ফজলে করিম আমার বিরুদ্ধেও ৫-৬টি মামলা দিয়েছেন।’
পাল্টাপাল্টি মামলার ধারাবাহিকতা
২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির একটি পাকা একতলা ভবনের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া ও কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট রাতে রাউজান থানায় একটি মামলা করেন সংগঠনটির দলইনগর-নোয়াজিশপুর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আলাউদ্দিন। এতে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও তার ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীসহ ৬৮ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে রাউজান পৌরসভার সাবেক মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, গহিরা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবসার, পৌরসভার কাউন্সিলর কাজী মো. ইকবাল ও বশির উদ্দিন খান; পৌরসভা শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহাজান ইকবালসহ মোট ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। বাকিদের অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
এর তিন দিন পর ২৬ আগস্ট মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ হলদিয়া ইউনিয়নের ফকিরটিলা (২০৪ নম্বর) শাখা কার্যালয় ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন সংগঠনটির ফকিরটিলা শাখার সহসভাপতি জোহেল উদ্দীন। ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিলের ঘটনার বিবরণ দিয়ে করা এই মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে। মামলায় আরও আসামি করা হয় জমির উদ্দিন পারভেজ, একেএম এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, ফারাজ করিম চৌধুরী, আহসান হাবিব চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সুমন দে, সাইদুল ইসলাম, জিয়াউল হক সুমন, কাজী ইকবাল ও বশির উদ্দিন খানসহ মোট ৪৬ জনকে।
ফজলে করিমের পরিবারের দাবি, মুনিরীয়া যুব তবলীগের সঙ্গে বিরোধের জেরেই তাকে বিভিন্ন ভুয়া মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মামলার চাপ সৃষ্টি করেছেন।
হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, অস্ত্রের মুখে জমি লিখিয়ে নেওয়া, ভাঙচুর ও দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ফজলে করিমের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩২টি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন মামলায় তাকে একাধিকবার রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।
যখন এলো প্রতিশোধের পালা
২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সরাইল ব্যাটালিয়নের একটি দল।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে প্রথম রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ওইদিন সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রাঙ্গণে আগে থেকেই উপস্থিত একদল লোক তার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। কয়েকজন পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানে ডিম নিক্ষেপ করেন। পরে ১০-১২ জন যুবক আদালত ভবনে ঢুকে তাকে আক্রমণের চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। পরে আদালত মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির কার্যালয় ভাঙচুরের মামলায় তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠান।
পরবর্তীতে ১৭ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে আটটি মামলার ভার্চ্যুয়াল শুনানি হয়। ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তার ফাঁসি ও ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মুনিরীয়া যুব তবলীগের সদস্য সম্রাট রোবায়েত, যিনি পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফজলে করিমের বিরুদ্ধে দেওয়া মূল অভিযোগটি লেখার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
গত ১৬ মে রাউজান পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি মুহাম্মদ ফোরকানকে মারধর করে মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোর পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।
সর্বশেষ গত ১২ জানুয়ারি ফজলে করিমের গুরুতর অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনালের সামনে ‘বিপ্লবী ছাত্রজনতা’ ব্যানারে একদল লোক অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এবং তার ফাঁসির দাবিতে ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করে।
ট্রাইব্যুনালের টার্গেটে ফজলে করিম একা
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে ফয়সাল আহমেদ শান্ত, ওয়াসিম আকরাম ও মো. ফারুক নিহত হন। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগের কর্মী ও তাদের রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা শুরুতে প্রকৃত জড়িতদের আড়াল করে রাউজানের সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে অভিযুক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার আইনজীবীদের কাছে দেওয়া এক পাতার একটি নোটে দাবি করা হয়, ১৬ জুলাইয়ের ওই ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নোটটিতে উল্লেখ করা হয়নি।
২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল নোমানের আবেদনের পর বিচারকেরা তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার ও আটকাদেশ দেন। অন্য কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আবেদন তখন করা হয়নি।
ঘটনা শহরের, আসামি রাউজানের
ট্রাইব্যুনাল যখন তাকে আটকাদেশ দেন, কয়েক মিনিট পর ট্রাইব্যুনালের বাইরে সংবাদ সম্মেলন করেন দুজন ব্যক্তি। তাদের একজন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং অন্যজন জুবায়ের আহমেদ। তারা দাবি করেন, ঘটনায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনি রাউজানের ফজলে করিমের নেতৃত্বে কাজ করতেন।
তবে বাস্তবে ফজলে করিমের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ওই দুই নেতার দৃশ্যত কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারা দুজনই সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, চট্টগ্রাম শহরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যখন বিভিন্ন প্রমাণে অন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তখন কেন শুধু ফজলে করিমকেই অভিযুক্ত করা হলো। তার নির্বাচনী এলাকা রাউজান শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এবং আন্দোলনের সময় সেখানে কোনো সহিংসতার ঘটনাও ঘটেনি।
মুনিরীয়ার চাপের কথা প্রসিকিউটরের মুখে
এই মামলার দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল নোমান ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে বলেন, ‘মুনিরীয়া কোনোভাবে বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে এবং ফজলে করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিশ্চিত করতে জনতার চাপ তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু আমরা আইসিটির প্রসিকিউটর হিসেবে, এবং এই মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর হিসেবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত আপাতদৃষ্টিতে অভিযোগের ভিত্তি পাই, ততক্ষণ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছি না। সে কারণেই মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেই এলাকায় কোনো নৃশংস ঘটনা ঘটেনি। চট্টগ্রাম শহরে, যেখানে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে, সেখানে ফজলে করিমের কোনো সাংগঠনিক দায়িত্বও ছিল না; তিনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ বা ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন না।’
তবে মুনিরীয়ার দেওয়া মূল অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ফজলে করিম ছাত্রদের হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছিলেন। নোমান বলেন, ‘এই অভিযোগটি আমরা এখনও তদন্ত করে দেখছি।’
অভিযোগ অস্বীকার মুনিরীয়ার
প্রসিকিউটরকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের মহাসচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? মুনিরীয়ার এত টাকা কোথা থেকে আসবে?’ সংগঠনটির অর্থের উৎস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১০ লাখের বেশি মুরিদান আছে। তারা দান করেন। তাতে কোটি কোটি টাকা আসে।’ সংগঠনের সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অডিট হয়। দেখে বলতে পারব।’
ফজলে করিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে মামলার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে ড. আবুল মনছুর বলেন, ‘জোর করে মামলার সুযোগ নেই। রাউজানে যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো প্রত্যেক শাখার প্রধানরা দায়ের করেছেন। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ৩৬টি ঘটনার জন্য ৩৬টি মামলা করব। পরে রাউজান থানার ওসির অনুরোধে ৫-৬টি মামলা হয়েছে।’
মুনিরীয়া সংগঠনটি উগ্রপন্থী ও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত—এই অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে তিলকে তাল করা হয়েছে। ফজলে করিম এসব প্রপাগান্ডা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিলেন।’
সিপি



