মাঝরাতে চট্টগ্রামে রেলের সিসিএস দপ্তরে আগুন, পুড়ল পুরোনো ফাইলপত্র, বাড়ছে রহস্য
কাজ করল না কোটি টাকার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা
চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের (সিসিএস) গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখায় গভীর রাতে আগুন লেগে পুড়ে গেছে পুরোনো ফাইলপত্র। দপ্তরটিতে কোটি টাকা ব্যয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা স্থাপন করা থাকলেও আগুন নেভাতে শেষ পর্যন্ত ডাকা হয় ফায়ার সার্ভিসকে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও দপ্তরের অভ্যন্তরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের কিছু অংশ আগুনে পুড়ে যায়। এতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিশেষ করে যেখানে দপ্তরের ফাইলপত্র রাখা হয়েছে ঠিক সেই কক্ষেই আগুন লাগার ঘটনায় অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কোনোভাবে প্রমাণ লোপাটের পরিকল্পিত ঘটনা কি না।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে পাহাড়তলী সিসিএস দপ্তরের পি-টু শাখায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটের দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ খলিলুর রহমান প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, শর্টসার্কিট বা সিগারেটের আগুন থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
সিসিএস দপ্তরের পি-টু শাখার প্রধান সহকারী মনির হোসেন জানান, আগুনে কিছু পুরোনো ফাইলপত্র পুড়ে গেছে।
অকার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা
দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পাহাড়তলীর এই প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরে বিভিন্ন ধরনের মালামাল সংরক্ষণের জন্য গুদাম রয়েছে। এখানে রাসায়নিকসহ বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থও রাখা থাকে। দেশি-বিদেশি পণ্য ক্রয় করে গুদামজাত করার পাশাপাশি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কেন্দ্র। কেপিআই জোন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় দপ্তরটিতে সার্বক্ষণিক আরএনবি সদস্যদের পাহারাও থাকে।
দায়িত্বরত আরএনবি সদস্যরা জানান, আগুন লাগার পরপরই প্রতিটি দপ্তরে রাখা ফায়ার স্টিম বুশার ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সেগুলো কাজ করেনি। সারিবদ্ধভাবে রাখা বোতল ব্যবহারের চিহ্ন থেকেই সেই চেষ্টার প্রমাণ মিলেছে।
দপ্তরের ভেতরে ও সীমানায় আগুন নেভানোর জন্য পানি, পুকুর এবং স্টিম বুশারসহ নানা ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো কার্যকর হয়নি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ব্যবহৃত ফায়ার স্টিম বুশারগুলোর মেয়াদই অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।
আগুনের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
সূত্র জানায়, ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দপ্তরে মেরামতকাজ করছিলেন ঠিকাদারের লোকজন। ভবনের ছাদ আংশিক খোলা ছিল। যে কক্ষে ফাইলপত্র রাখা হয়েছে, তার ওপর টিনের ছাউনি দেওয়া। বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার সুযোগ প্রায় নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, বন্ধ অফিসে সিগারেট খাওয়ার প্রশ্নও ওঠে না। আবার শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগলে তা রাত ১১টার দিকে কেন ঘটল—এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে দপ্তরের ফাইলপত্র রাখা হয়েছে ঠিক সেই কক্ষেই আগুন লাগার ঘটনায় অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কোনোভাবে প্রমাণ লোপাটের ঘটনা কি না।
একটি ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার স্টিম বুশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে জরুরি দাপ্তরিক ফাইল থাকা কক্ষে স্প্রে করার পর আগুন নেভার পরিবর্তে আরও বেড়ে যায়।
ঘটনার পর সেখানে ছুটে আসেন সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রাশেদ ইবনে আকবরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারা। আগুন নেভাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এ প্রশ্নে রাশেদ ইবনে আকবর বলেন, স্টিম বুশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, আগুন নেভানোর জন্য রাখা ফায়ার স্টিম বুশারগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিষয়টি দেখে তিনি এবং অন্য কর্মকর্তারা হতভম্ব হয়ে যান।
প্রায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।
জেএস/সিপি



