বাসি চিকেন গ্রিল বিক্রি করে ধরা খেলো চট্টগ্রামের নগরীর ‘গ্র্যান্ড সিকদার’। একইসঙ্গে খাবারে নিষিদ্ধ পেপার লাগানোয় দায়ে কাচ্চি ডাইনকেও অর্থদণ্ড করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে এই অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠান দুটিকে ৩০ হাজার অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযানে আরও দুটি দোকানে মানবিহীন খাবার পাওয়া গেছে। এসব অপরাধে তাদের কাঁধে উঠেছে ৯ হাজার টাকার অর্থদণ্ড।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, অভিযানে কাচ্চি ডাইনের জামালখান মোড় শাখায় দেখা যায়, তাদের তৈরি জুসে হাতে লেখা মেয়াদের মোড়ক এবং খাবারে পেপার দেওয়া হয়েছে, যা হাইকোর্ট কর্তৃক নিষিদ্ধ। এসব অপরাধে কাচ্চি ডাইনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জামালখানের গ্র্যান্ড সিকদার হোটেলের অপরাধ আরও ভয়ংকর। তারা ২-৩ দিনের বাসি গ্রিল খাওয়াচ্ছিল ক্রেতাদের। অভিযানে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
২০২২ সালের ২ মার্চ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে গ্র্যান্ড সিকদারকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট একই অপরাধে লাখ টাকা জরিমানা করেন সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে নগরে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে গড়ে ওঠা কাচ্চি ডাইন নামে রেস্তোরাটি রীতিমতো গ্রহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। খাবারে অননুমোদিত কেমিক্যাল, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, অপরিষ্কার ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠাটির বিভিন্ন শাখার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও তারা কোনো মতেই শুধরাচ্ছে না।
এর আগে হাজী কাচ্ছি ঘর নামে কাচ্চি ডাইনের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানকে একই অপরাধে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপরও তারা না শুধরালে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া। তেমনই কাচ্চি ডাইনের জামালখানের প্রতিষ্ঠানটি না শুধরায়, তাহলে এটিও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্মকর্তারা।
অভিযানের বিষয়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মাহমুদা আক্তার বলেন, আজকে আমরা অভিযান চালিয়ে চার প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এআরই/ডিজে



