সামরিক ও প্রতিরক্ষাশিল্পে সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ বা সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাবিত স্থানেই এই নতুন অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
পরে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
আশিক চৌধুরী জানান, সামরিকশিল্পে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা উপকরণ উৎপাদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বেজা ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যৌথভাবে কাজ করেছে। এর ফলেই প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি বলেন, মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এনএসইজেড) ভেতরে প্রায় ৮৫০ একর খালি জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। জমিটি গত বছরের জুন পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য প্রস্তাবিত ছিল, যা পরে বাতিল হয়। এখন সেটি বেজার মাস্টারপ্ল্যানে সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, কোন ধরনের সামরিক পণ্য উৎপাদন হবে এবং কারা বিনিয়োগ করবে—তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে; চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন নির্ধারণ হবে।
এ ছাড়া সভায় আরও কয়েকটি বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেশে একটি ফ্রি ট্রেড জোন বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৬০০–৬৫০ একর জমিতে এটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
কুষ্টিয়া চিনিকলকে বেজার সঙ্গে যুক্ত করে সেখানে একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলারও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আশিক চৌধুরী জানান, প্রায় ২০০ একরের এই স্থানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকায় বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধা হবে।
এ ছাড়া বিদ্যমান আইনে পৌরসভা এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সীমাবদ্ধতা শিথিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশে প্রায় ৩৩১টি পৌরসভায় থাকা বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোকে নতুন নিয়মে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।



