চট্টগ্রাম নগরের জামাল খান এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা। তিনি জানান, সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোতোয়ালী থানার জয়পাহাড় মৌজায় বিএস খতিয়ান নম্বর ৯৭ এবং দাগ নম্বর ৩৮৪-এর ‘খিলা’ শ্রেণির জমিতে কাটাকাটি করা হয়েছে। কাটা অংশের দৈর্ঘ্য ১৫০ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট এবং উচ্চতা ৮ ফুট। এতে মোট ৯ হাজার ৬০০ ঘনফুট মাটি অপসারণের হিসাব পাওয়া গেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট ১০০ টাকা হারে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়।
তবে কর্মকর্তারা বলছেন, খতিয়ানে জমির শ্রেণি ‘খিলা’ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সেটি পাহাড়। সোনিয়া সুলতানা বলেন, পরিদর্শন প্রতিবেদনে বর্ণিত স্থানে পাহাড় কাটার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পরিদর্শনে দৃশ্যমানভাবে প্রায় ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৮ ফুট প্রস্থ ও ৮ ফুট উচ্চতায় মাটি কাটা দেখা গেছে। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৯ হাজার ৬০০ ঘনফুট পাহাড় কাটা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৬(খ) অনুযায়ী পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি নিরূপণ এবং ধারা ৭ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। প্রতি ঘনফুট পাহাড় কাটার ক্ষতিপূরণ ১০০ টাকা ধরে ৯ হাজার ৬০০ ঘনফুটের জন্য ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানার পাশাপাশি বিপিসিকে কাটা অংশ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো পাহাড় বা টিলা না কাটার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে সংস্থাটিকে।
শুনানিতে বিপিসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপ-মহাব্যবস্থাপক এস এম জুবায়ের হোসেন ও এলডিএ মো. শিহাব উদ্দিন। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন পরিদর্শক মুহাম্মদ আশফাকুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ টেকনিশিয়ান মো. ওমর ফারুক। পরিদর্শন প্রতিবেদন, অভিযুক্ত পক্ষের লিখিত বক্তব্য ও দালিলিক প্রমাণ পর্যালোচনা করে এই আদেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ ঘনফুট পাহাড় কেটে ফেলার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে একটি রেস্টহাউস নির্মাণের কাজ চলছিল এবং এ জন্য পাহাড়ের পাদদেশে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, প্রমাণ পাওয়ার পর বিপিসিকে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিতে সংস্থাটির দুই কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে পাহাড় কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর তাদের জরিমানা করা হয়।
এর আগে একটি অফিস ভবন নির্মাণের জন্য পাহাড়ের পাদদেশ কেটে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগও উঠেছিল বিপিসির বিরুদ্ধে। তবে তখন পাহাড়টির শ্রেণি ‘খিলা’ হওয়ায় শ্রেণিগত জটিলতার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।



