লেস্টারে প্রথম চাটগাঁইয়া মেজবান, প্রবাসে চট্টগ্রাম সমিতি ইউকে’র তিন দশকের উৎসব

ইংল্যান্ডের লেস্টার শহরে প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হলো চট্টগ্রাম সমিতি ইউকে’র ৩০ বছর পূর্তির আয়োজন। প্রথমবারের মতো সেখানে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী চাটগাঁইয়া মেজবান ঘিরে লেস্টারসহ আশপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক অতিথি সমবেত হন। আয়োজনটি দ্রুতই উৎসবের আমেজে ভরে ওঠে।

গত ৭ ডিসেম্বর লেস্টারে বসবাসরত প্রবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় মাদানী স্কুল হলের বৃহৎ পরিসরে মেজবান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সমিতির ভাইস চেয়ারপারসন সেলিম হোসাইন এবং তরুণ উদ্যোক্তা মাসুম সামজাদ। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নাদিদ মোস্তফা।

লন্ডন, ম্যানচেস্টার, রাগবি, বার্মিংহামসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত অতিথিদের উপস্থিতিতে মেজবান রূপ নেয় প্রবাসীদের এক উন্মুক্ত মিলনস্থলে। লেস্টার চট্টগ্রাম কমিউনিটির পক্ষ থেকে চেয়ারপারসন নাজিম উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং কেক কেটে মেজবানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

চেয়ারপারসন নাজিম উদ্দিন বলেন, এ বছর লন্ডনের বাইরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বড় শহরে চট্টগ্রামের মেজবান আয়োজন করা হচ্ছে। তার মধ্যে লেস্টারের এই আয়োজনটি সমিতির চতুর্থ মেজবান। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই এসব উদ্যোগ।

অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় চট্টগ্রামের পরিচিত গরুর মেজবানি মাংস, ডাল, গরুর নলা ও সাদা ভাত। পুরো আয়োজনটি ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত, যা প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর আন্তরিকতা ও সামাজিক সহযোগিতার প্রকাশ হিসেবে ফুটে ওঠে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সমিতি ইউকে-এর চেয়ারপারসন নাজিম উদ্দিন, ভাইস চেয়ারপারসন সেলিম হোসাইন, প্যাট্রন ব্যারিস্টার চৌধুরী মোহাম্মদ জিন্নাত আলী, সেলিমুল হক, ইফতি আহমদ, জুয়েল আবেদীন চৌধুরী ও সারওয়ার সেলিম।

লেস্টার কমিউনিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রফিকুল ইসলাম, আব্দুল হক রাশেদ, আলমগীর হোসেন, মাসুম সামজাদ, মহিউদ্দিন বহদ্দা চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, আমিনুর রশিদ, শহিদ উল্যা খান, মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া ও ডা. ওয়াহিদুল আলম।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান ফয়সাল কবির নিক্সন।

চট্টগ্রাম সমিতি বার্মিংহামের বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান মজিবুল হক ও নুরউদ্দিন। বক্তারা সবাই চট্টগ্রাম সমিতি ইউকে’র উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে একটি চ্যারিটি সংস্থা যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে, যা পরবর্তীতে সেখানকার অসহায় শিশুদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

শেষে আয়োজনে সহায়তাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ksrm