চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমানের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় আবেদের মা ছৈয়দুন্নেছা বলেছেন, ‘আবিদ হত্যার ১৩ বছর পার হলেও আমরা এখনও হত্যার বিচার পাইনি।’
সোমবার (২১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেয়ার কনফারেন্স হলে এ স্মরণসভার আয়োজন করে তার স্বজন ও সহপাঠীরা।
২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান আবিদকে ছাত্রলীগকর্মীরা পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। দুদিন পর (২১ অক্টোবর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ওই ঘটনায় আবিদুরের মামা নেয়ামত উল্লাহ চৌধুরী বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মেডিকেল ছাত্রলীগের ভিপি মফিজুর রহমান জুম্মান এবং জিএস হিমেল চাকমাসহ ২২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
সোমবারের স্মরণসভায় সন্তান হত্যার বিচায় চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবিদের মা সৈয়দুন্নেসা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।’
এসময় তিনি সন্ত্রাসীদের বিচার, বিএমডিসি সার্টিফিকেট বাতিল, চিহ্নিত খুনিদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানান।
সভায় ডা. তৌকির আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, আবিদ হত্যার বিচারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। আবিদের স্মৃতি ধরে রাখতে কলেজে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।
এসময় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমানকে ছাত্রদল করার অপরাধে মফিজুর রহমান জুম্মা ও সোহেল পারভেজ সুমনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ ক্যাডার আটক করে প্রথমে ছাত্র সংসদের টর্চার সেলে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে ছাত্র সংসদে, দ্বিতীয় দফায় হোস্টেল ক্যান্টিনের সামনে ও তৃতীয় দফায় প্রধান ছাত্রাবাসের বি–২০ নম্বর রুমে নিয়ে গিয়ে আবিদুর রহমানকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা সার্জিস্কোপ হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’তে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর আবিদ মারা যান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
আরও বক্তব্য রাখেন ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, ডা. ঈসা চৌধুরী, ডা. সারোয়ার আলম, ডা. ইমরোজ উদ্দিন, ডা. মাহমুদুর রহমান, ডা. তানভীর হাবীব তান্না, ডা. আবদুল মতিন, ডা. সাঈফ সোহাগ, ডা. ফরহাদ আহমেদ লিজন, ডা. শাওন আনোয়ার, ডা. সুমন, ডা. মাসুদ আবদুল্লাহ, ডা. শাকির উর রশিদ, ডা. মোনায়েম ফরহাদ, ডা. আসিফ, ডা. ফয়সাল, ডা. সাদ্দাম, ডা. সামিউল, ডা. উল্লাস, ডা. ওবায়েদ, ডা.সাদ্দাম, ডা. মামুন, ডা. মেহেদী, ডা. টিটু, ডা. ফারজাউল। আবিদের সহপাঠীদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন ডা. মাসুম, ডা. নাদিম, ডা. সোহাগ, ডা. মাহমুদ, ডা. আহমদ উল্লাহ চৌধুরী।