খাগড়াছড়ি জেলা সদরের জিরোমাইল এলাকায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে ধসে পড়ে আছে তিনটি কালভার্ট। সাম্প্রতিক সময়ে টানা বর্ষণে এসব কালভার্ট ধসে পড়ায় স্থানীয় মানুষ যাতায়াত করছে বাঁশের সাঁকো ও ছড়ার পানি দিয়ে। এতে খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
খাগড়াছড়ি শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে মহালছড়া টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি সদরের মহালছড়া-দেওয়ানপাড়া এলাকার মহালছড়া নামের ছড়ার ওপর নির্মিত এই কালভার্টটি ধসে পড়ে দেড় মাস আগে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) পার্থ চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, আমাদের আসা-যাওয়ায় সমস্যা। শিক্ষার্থীরা খুব কষ্ট করে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদরের গোলাবাড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার রাম কুমার ত্রিপুরা বলেন, ভারি বৃষ্টি হওয়ায় কালভার্টের মাটি সরে যায়। কালভার্ট দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। ছড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। পশ্চিম গোলাবাড়ি ত্রিপুরাপাড়া, মুনসিপাড়া, খেদাপাড়া, আলুটিলা, রামচৌধুরী বাগান, দৈল্যাছড়া, হিলছড়িসত দুর্গম সাত গ্রামের মানুষ বেশ কষ্ট পাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা যে বরাদ্দ পাই তা দিয়ে নির্মাণ করা সম্ভব নয়। জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড অথবা এলজিইডিকে করতে হবে।
জিরোমাইল এলাকার শিক্ষার্থী সুনীল ত্রিপুরা ও অমল ত্রিপুরা বলেন, দেড় মাস আগে এই কালভার্টটি পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়ে। সাঁকো ধসে ছড়াতে পড়ে আছে। তখন থেকে সাঁকোর পাশ দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। আমাদের গ্রামে ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী ছড়ার পানি দিয়ে হেঁটে যাওয়া-আসা করছে।
সদরের মহালছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি সদরের মহালছড়া এলাকার ওপারে বসবাসরত পাহাড়ি ত্রিপুরা পরিবারের মানুষ ছড়ার ওপর দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করছে।
মহালছড়া এলাকার স্থায়ীয় বাসিন্দা মহেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, এই পথ ধরে বাড়ি থেকে আমি পায়ে হেঁটে সড়কের পাশের দোকানে আসতাম। সেই হাঁটা বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জতিরময় ত্রিপুরা, নয়ন ত্রিপুরা ও রিনা বালা ত্রিপুরা বলেন, কালভার্ট ধসে পড়ে গেছে। মালামাল কাঁধে অথবা মাথায় করে বয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে হয়। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়।
খাগড়াছড়ির গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানরঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, বিধ্বস্ত কালভার্টটি পুননির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সিপি