শিগগিরই আন্তর্জাতিক রূপ পাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। ইতোমধ্যে রানওয়ে নির্মাণের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। লাইটিংসহ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। শেষের পথে ডমেস্টিক টার্মিনাল নির্মাণও। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্বোধনের পর সাগরের জল ছুঁয়ে নামবে বিমান।
সোমবার (২৪ জুলাই) বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এই সময় তিনি কাজের অগ্রগতি যাচাই করেন। বাকি কাজ শেষ করে দ্রুত নির্দেশনা দেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার নিয়ে খুবই আন্তরিক। যার কারণে এখানে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে। তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরকে শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দিতে চান। তাই এখানে আরও একটি বিমানবন্দর করা হবে। সেখানে আরও একটি রানওয়ে ও আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। যার মুখ্য উদ্দেশ্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ যাতে সরাসরি কক্সবাজারে আসতে পারে।’
প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরের আশপাশে এখনও বহু স্থাপনা রয়েছে। যা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। তবে তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ভালবাসেন। তিনি দেশের গৃহহীনদের জমিসহ ঘর দিচ্ছেন। বিমানবন্দরের আশাপাশে বসবাসরত বাসিন্দাদেরও পুনর্বাসন করা হবে।’
জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক, কানিজ ফাতেমা আহমেদ মোস্তাক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম, সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল মালেক, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, নবনির্বাচিত মেয়র মাহবুবুর রহমান ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের প্রকল্প পরিচালক মো. ইউনুছ ভূঁইয়্যা।
পরে প্রতিমন্ত্রী কস্তুরাঘাটে নবনির্মিত ব্রিজ পরিদর্শন করেন। এই সময় তিনি বলেন, ‘এই ব্রিজ দুই পাড়ের মানুষকে আরও কাছে আনবে। প্রসার হবে ব্যবসা-বাণিজ্য। আধুনিকতার ছোঁয়া আসবে খুরুশকুলে। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে।’
তিনি ব্রিজের পাশে কক্সবাজার পৌরসভার বর্জ্যের স্তূপ স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
ডিজে