খেলাপি ঋণ ২৭ কোটি, নুরুল ইসলাম বিএসসি পরিবারের সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা

২৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ মামলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং তার পরিবারের সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানার খাতুনগঞ্জ শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা মো. আরিফ উদ্দিন এ মামলা দায়ের করেন।

বাদিপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২২ কোটি ৮২ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৭ টাকা ৩৬ পয়সা খেলাপি ঋণ আদায়ের দাবিতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। নুরুল ইসলাম বিএসসির স্ত্রী সানোয়ারা বেগমের সম্পত্তি রায়ের আগে অগ্রিম ক্রোক করার আবেদন জানানো হয়।

বাদিপক্ষের আইনজীবী উল্লেখ করেন, বিবাদিগণ ইচ্ছাকৃত খেলাপি এবং ২০১৩ সালের আগে ঋণ গ্রহণের পর থেকে বারবার পুনঃতপশীল সুবিধা নিয়েও ঋণ পরিশোধ করেননি।

আদালতের আদেশে বলা হয়, তপশীলভুক্ত সম্পত্তি কেন ক্রোক করা হবে না, তা আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য বিবাদিগণকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তপশীলভুক্ত সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মালিকানাধীন সানোয়ারা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, সানোয়ারা ডেইরি ফুডস লিমিটেড এবং ইউনিল্যাক সানোয়ারা বিডি লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠান জামানত ছাড়াই উত্তরা ব্যাংক থেকে ৩৭ কোটি টাকার ঋণ নেয়। ব্যক্তিগত নিশ্চয়তার ভিত্তিতে এই ঋণ দেওয়া হলেও ১৪ বছর পরও কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠান দুটিকে ২০ কোটি টাকার এলসি ঋণসীমা, ১৫ কোটি টাকার ট্রাস্ট রিসিট ঋণ এবং দুই কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়া হয়। তবে ২০১৫ সালে এসব ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, উত্তরা ব্যাংক সানোয়ারা গ্রুপকে অবৈধ সুবিধা দিয়েছে, যা আর্থিক খাতের সুশাসনের পরিপন্থি।

২০১৬ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ উপাদান দিয়ে আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগে সানোয়ারা ড্রিংকস অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন র্যা বের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তৎকালীন অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ১৪৫ কেজি স্ট্রবেরি ট্রপিং, ডার্ক কম্পাউন্ড চকলেট এবং ২০ কেজি হানি রিটেল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

জেজে/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm