চট্টগ্রাম রেলের সেই কর্মকর্তাকে বদলির ৩ দিন পর ‘ওএসডি’

রেলওয়ে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলীর প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) দপ্তরের কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামকে ঢাকায় বদলির তিনদিন পর তা বাতিল করা হয়েছে। সেই আদেশ সংশোধন করে তাকে মহাপরিচালকের (ডিজি) দপ্তরে সংযুক্তির আদেশ (ওএসডি) দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার ডিজেল শপে বদলি করা হয়।

গত ৭ জানুয়ারি সেই দপ্তরাদেশ পুনরায় সংশোধন করা হয়। উপ-পরিচালক পলাশ কুমার সাহা (পার্সোনেল-১) স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মহাপরিচালকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি এক বদলির আদেশে সিনিয়র সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক হিসেবে ঢাকার ডিজেল শাখায় বদলি করা হয়।

রেলওয়ের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ৪ জানুয়ারি শরিফুল ইসলামকে বদলি করা হলে তার কমিশন বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি উপদেষ্টার নজরে পড়লে তিনি প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মো. বেলাল হোসেন
সরকার ও পরিচালক আফজাল হোসেন ডেকে ভর্ৎসনা করা হয়। এরপর বদলির আদেশ পুনরায় পরিবর্তন করা হয়।

জানা গেছে, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মো. বেলাল হোসেন সরকার রেলের ক্রয়কাণ্ডে দুদকের মামলায় অভিযুক্ত হন। এজন্য তার ১ বছরের ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়।

প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মো. বেলাল হোসেন সরকারকে ভর্ৎসনার বিষয়ে জানতে তিনি ‘নো কমেন্ট’ বলে জানান।

এর আগে চট্টগ্রাম প্রতিদিনে ‘ফাইভ পার্সেন্ট কমিশন’ দাবি করা রেলের সেই কর্মকর্তাকে বদলি—শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই মূলত টনক নড়ে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।

প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়, শরিফুল ইসলামের কমিশন দাবির একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত কমিশন দাবি করছেন। এমনকি হুমকির সুরে কমিশন না দিলে টেন্ডার ও বিল আটকে রাখার কথাও তিনি একাধিকবার জোর দিয়ে বলেন। এসব ঘটনায় রেলওয়ের কার্যালয়ে কর্মরত ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পরপরই তাকে বদলি করা ঢাকায়।

জেএস

ksrm