ফটিকছড়ির প্রবাসী হত্যা মামলায় আরও ৩ আসামি রিমান্ডে

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় প্রবাসী মাসুদুর রহমান মীর্জা হত্যা মামলার আরও তিন আসামির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ এর বিচারক নুরুল হারুনের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তিন আসামি হলেন জাহাঙ্গীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও রফিকুল ইসলাম।

s alam president – mobile

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে গত ১২ জুলাই তিন আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালত শুনানি শেষে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য বের করার চেষ্টা করবো আমরা।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জাহাঙ্গীর, আনোয়ার ও রফিকুলের জামিন শুনানির জন্য পোস্টমর্টেম ও সুরতহাল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয় ৯ জুলাই। শুনানিতে পোস্টমর্টেম ও সুরতহাল প্রতিবেদনে ভিকটিম মীর্জার শরীরে ধারালো অস্ত্রসহ আরও একাধিক আঘাত থাকায় ওইদিন তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

এদিকে এই মামলার অন্যতম আসামি আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে রিমান্ডের তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বাদি পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

Yakub Group

বাদিপক্ষের আইনজীবীর অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ জানান, আকতার নিম্ন আদালতে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ও রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। এটা আদালতের সঙ্গে প্রতারণা। তার জামিন আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা হয়েছে, যা এখন আদেশের অপেক্ষায় আছে।

গত ২৫ মার্চ ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের বালুটিলা বাজার মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে মাসুদুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ভূজপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান বাবু। হত্যকান্ডের দিন আসামী শামীম হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। গত ১১ জুন বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আকতারকে কারাগারে পাঠান বিচারক।

গত ২০ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আকতারসহ তিন আসামিকে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। পরে আসামি পক্ষের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আদেশটি স্থগিত করে। কিন্তু মামলার আসামি আকতার দু’দিনের রিমান্ড স্থগিতের বিষয়টি গোপন করে উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করেন। তার আবেদনটি গত ২ জুলাই আদালত মঞ্জুর করলে তিনি জামিন পান।

মামলার বাদি মাহফুজুর রহমান বাবু অভিযোগ করে জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার ভাই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। আসামিরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আকতার হোসেনের নেতৃত্বে আসামিরা তার ভাইকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করে। আসামি আকতার জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। তার সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে আতংক ছড়াচ্ছে। মামলার সাক্ষীদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে।

বিএস/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!