বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলের নাজিরারটেক পয়েন্টে ভেসে আসা একটি ফিশিং বোট থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল।
রোববার (২৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়াস সার্ভিস ও পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওসি জানান, শনিবার রাতে মরদেহবাহী একটি ফিশিং বোট ভেসে আসার খবর জানায় জেলেরা। খবর পেয়ে ওইদিন রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বোটটি দেখে কয়েকটি মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে রোববার সকালের দিকে ফায়ার সার্ভিস দলকে সঙ্গে নিয়ে এসব মরদেহ উদ্ধারে যায় পুলিশ। সকাল থেকে চেষ্টা করে ফিসিং বোটটি কূলের কাছে এনে বোটের কোলস্টোর থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল জানান, কক্সবাজারের স্থানীয় ছেলেরা বঙ্গোপসাগরে গভীর এলাকায় ওই ফিশিং বোটটি দেখতে পায়। পরে তারা শনিবার ঈদের দিন রাতে ফিশিং বোটটি টেনে নাজিরাটেক পয়েন্টে নিয়ে আসে। সেখানে এনে বোটের ভেতর তারা গলিত বেশ কয়েকটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
১৫-১৬ দিন আগে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে ডাকাতি করতে গিয়ে একদল জলদস্যু জেলেদের হামলা করে বলে জানা গিয়েছিল। হামলায় জলদস্যুরাও মারা পড়েছিল বলে খবর বেরিয়েছিল। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত ওই দস্যুবাহিনীর বোটটির হাদিস পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, নাজিরারটেক পয়েন্টে ভেসে আসা বোটটি জলদস্যুদের। তাই নাজিরটেকে ভেসে আসার খবর পেয়ে নিখোঁজদের স্বজনরা সকাল থেকে ভিড় করে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসির মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহগুলো হাত-পা বাধা অবস্থায় ছিল এবং পচে গলে গেছে। এগুলো উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মরদেহগুলো কোথা থেকে, কিভাবে এসেছে তা জানা যায়নি। এমনি কারো পরিচয়ও শনাক্ত করা যায়নি।’
ডিজে