চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টায় আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ছয়জনে দাঁড়ালো।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাব। বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, ২৫ জানুয়ারি বিকেলে খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিজানকে (৫৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ২৬ জানুয়ারি ভোরে বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকা থেকে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. মামুনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
২৭ জানুয়ারি কক্সবাজার সদর থানা এলাকা থেকে আলীরাজ হাসান ওরফে সাগরকে (২৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
র্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২৫ জানুয়ারি আসামি মো. মিজানকে (৫৩), ২৬ জানুয়ারি ভোরে মো. মামুনকে (৩৮) এবং ২৭ জানুয়ারি আলীরাজ হাসান ওরফে সাগরকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, আগে গ্রেপ্তার তিনজনসহ এখনও পর্যন্ত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে ১৯ জানুয়ারি অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসী হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় জঙ্গল সলিমপুর আলিনগরের ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ ইয়াসিন ও তার সহযোগী নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রথম ধাপেই ২২ জানুয়ারি র্যাবের হাতে দুইজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও র্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাকারীরা তিন র্যাব সদস্য ও একজন স্থানীয় ব্যক্তিকে জিম্মি করে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে আলীনগরের একটি নতুন নির্মিত দোকানে নিয়ে যায় এবং মারধর করতে থাকে। এ সময় তারা র্যাবের চারটি পিস্তল ছিনিয়ে নেয়। পরে ফৌজদারহাট পুলিশের নেতৃত্বে আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করা হয় এবং দোকানের পাশ থেকে ছিনতাই করা পিস্তলগুলো উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার এআরএম মোজাফ্ফর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ডিজে



