এক মাস আগে ধ্বংস না করে সম্পূর্ণ প্যাকেজিং অবস্থায় ব্যবহার অযোগ্য, পচা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যগুলো মাটি চাপা দিয়েছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ। এসব পণ্যগুলো গর্তের মধ্যে বস্তাভর্তি থাকায় সেখান থেকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। ঘটনাস্থলে থাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিদিন এসব পণ্য পাচার হচ্ছে।
সরেজমিনে আউটার রিং রোড চট্টগ্রামের হালিশহর থানার উত্তর হালিশহরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন চৌধুরী পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বস্তায় বস্তায় ফেলে দেওয়া পচনশীল পণ্য আবারো কাভার্ডভ্যানে ভর্তি করছে কিছু লোক। চোর সিন্ডেকেটের ১০ থেকে ২০ জনের একটি দল নিরাপত্তা প্রহরীদের উপস্থিতিতে স্কেভেটরের সাহায্যে প্রতিদিন তুলে নিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসযোগ্য পণ্যগুলো। পাচার হওয়া এসব পণ্যগুলো মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করার কথা রয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, খেজুর, ফলমূল এবং চিনি।
অভিযোগ রয়েছে, নগরের বন্দর থানার এছাক ডিপো এলাকার ফারুক নামে এক স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করে প্রতিদিন গভীর রাতে কাভার্ডভ্যানে করে পাচার হচ্ছে সরকারি নিলামের ধ্বংসযোগ্য এসব পণ্য। প্রতিদিন ইফতারির সময় ও রাত আড়াইটা থেকে ভোর পর্যন্ত সেখানে চলে পণ্য চুরির মহোৎসব।
জানা যায়, দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে এবং অফডকে পড়ে থাকা ব্যবহার অযোগ্য, পচা, গলা, মেয়াদোত্তীর্ণ ৩৫ কনটেইনারের পণ্য ৩১ মার্চ মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। এর আগে গত ২৯ মার্চ বিভিন্ন ডিপো থেকে তালিকাভুক্ত ২৭টি কনটেইনারের পণ্য ধ্বংস করা হয়। এর অংশ হিসেবে এ পযর্ন্ত ৬২টি কনটেইনার খালি করা হয়েছে। খালি করা হবে আরো ২৩৬টি কনটেইনার। পর্যায়ক্রমে মোট ২৯৮টি কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের উত্তর হালিশহরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন রোডের চৌধুরী পাড়ার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এসব পণ্য মাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা কাস্টমসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, বস্তাভর্তি পণ্যগুলো অক্ষত অবস্থায় মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানতে চাইলে হালিশহর থানার ওসি মোহাম্মদ রফিক (২৪ এপ্রিল) উল্টো জানতে চান, ‘উত্তর হালিশহরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন চৌধুরী পাড়া এলাকায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ধ্বংসযোগ্য পণ্যগুলো কি গতকালই নিয়ে গেছে? ঠিক আছে আমি খবর নিচ্ছি।’
চট্টগ্রাম কাস্টম কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, ‘চলমান লকডাউনের কারণে সম্ভবত সবগুলো পণ্যে ধ্বংস করা হয়নি। সেখানে আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা রয়েছে। তবে লকডাউন শেষে এসব পণ্য ধ্বংস করা হবে।’
কেএস