চট্টগ্রামে এই প্রথম জব্দ বিমানের দুবাইফেরত স্বর্ণবাহী প্লেন

রাজশাহীর মেয়ে স্বর্ণের চালান আনেন লুকিয়ে

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় দুবাইফেরত একটি উড়োজাহাজ জব্দ করা হয়েছে। উড়োজাহাজটির একটি আসনের নিচ থেকে ২ কেজি ৩২০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়েছে। এসব স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

চট্টগ্রামে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় উড়োজাহাজ জব্দের ঘটনা এই প্রথম। ১০ বছর আগে ঢাকায় চোরাচালানের স্বর্ণ বহনের দায়ে দুটি উড়োজাহাজ জব্দ করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭-ইআর মডেলের উড়োজাহাজটি জব্দ করা হয়।

জব্দ করা উড়োজাহাজটির মূল্য দেখানো হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। এ ঘটনা বিচারাদেশের জন্য নথি চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

উড়োজাহাজটির একটি আসনের নিচ থেকে ২ কেজি ৩২০ গ্রাম ওজনের সোনার বার জব্দ করা হয়। এরপরই বিকেলে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটি জব্দ করেন।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ জব্দের ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এক দশক আগে ঢাকায় চোরাচালানের সোনা বহন করায় দুটি উড়োজাহাজ জব্দ করার নজির রয়েছে।

এ ঘটনায় আতিয়া সামিয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বিমানের ওই আসনের যাত্রী ছিলেন। তার বাড়ি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায়।

গ্রেপ্তার আতিয়া সামিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ‘ওশেন গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড জুয়েলারি’ নামে একটি দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। দেশেও তিনি অনলাইনে সোনা বিক্রি করেন বলে জানা গেছে।

আতিয়ার বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামে যাত্রীদের নামিয়ে জব্দ করা উড়োজাহাজটি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের চলে গেছে।

জানা গেছে, উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার সকালে ইউএই থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহযোগিতায় উড়োজাহাজের ‘৯জে’ আসনের নিচ থেকে ২ কেজি ৩৩০ গ্রাম ওজনের ২০টি স্বর্ণের বার জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এসব বারের মূল্য প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ওই আসনের যাত্রী ছিলেন আতিয়া সামিয়া।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, স্বর্ণের বারগুলো উড়োজাহাজের আসনের নিচে বিশেষ কায়দায় প্লাস্টিকের টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। উড়োজাহাজের কারও সহযোগিতা ছাড়া কোনো যাত্রীর পক্ষে এভাবে স্বর্ণের বার লুকানো সম্ভব নয়।

জব্দ করা উড়োজাহাজটি যাত্রী পরিবহন করতে পারবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, নির্ণয়কারী কর্মকর্তা চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জিম্মায় উড়োজাহাজটি দিতে পারেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, চোরাচালানের পণ্য বহন করা কাস্টমস আইন অনুযায়ী উড়োজাহাজটি জব্দ করা হয়েছে। এতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসও জবাবদিহির মধ্যে আসবে।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm