চট্টগামের চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলায় মিথ্যা ও অসত্য তথ্য সরবরাহ এবং তা ইউটিউবে প্রচারের অভিযোগে করা মামলা থেকে পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তার ও তার বাবা মো. আব্দুল ওয়াদুদ মিয়াকে অব্যাহতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
একইসঙ্গে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন ও বাবুলের ভাই মো. হাবিবুর রহমান লাবুর বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে নেন। সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জুলফিকার হায়াত এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রামের একটি আদালতে মিতু হত্যা মামলায় বাবুলের শ্বশুর স্বাক্ষ্য দিতে আসলে সেখানে সাদা পোষাকে উপস্থিত ছিলেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার। যা একাধিক উপস্থিতির ভাষ্যমতে নিশ্চিত হওয়া যায়।
২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন।
এরআগে মিতু হত্যা মামলায় হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুন্নেছার আদালতে আবেদনটি করেছিলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার
পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে মামলার আবেদন করেছিলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার।
আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়, তারা হলেন—পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।
মূলত চট্টগ্রামের আদালতে মিতু হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন বাবুল আক্তার, বাবুল আক্তারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন প্রচারও করেছিলো চট্টগ্রাম প্রতিদিন। এই ঘটনার পর মিতু হত্যা মামলায় বাবুলকে ফাঁসানোসহ নির্যাতনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি ডকুমেন্টরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন আলোচিত সাংবাদিক ইলিয়াস। এই ঘটনায় মামলা করেন পিবিআই প্রধান।
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরেট নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ঘটনার সময় মিতুর স্বামী তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার অবস্থান করছিলেন ঢাকায়। চট্টগ্রামে ফিরে তিনি অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
বিএস/এমএফও