s alam cement
আক্রান্ত
১০২২৪৫
সুস্থ
৮৬৮৫৬
মৃত্যু
১৩২৫

বিপাকে চট্টগ্রাম বন্দর, তিন দিনের পরিবহন ধর্মঘটে ৩৯ হাজার কন্টেইনারের স্তুপ

0

তিন দিনের পরিবহন ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৮ হাজার ৭৮৩টি কন্টেইনারের (টিইইউস) স্তুপ জমেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় জমেছে ১ হাজার ৮৪১টি কন্টেইনার।

রোববার (৭ নভেম্বর) বেলা ৩টা এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত অতিরিক্ত কন্টেইনারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। ৪৯ হাজার ১৮টি কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা আছে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডের। তবে বন্দরের অপারেশনাল কাজে এই ধারণ ক্ষমতার ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। তাই ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে কয়েকদিনের মধ্যে কন্টেইনারের অস্বাভাবিক জট তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে জাহাজ থেকে কন্টেইনার খালাস বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

অথচ করোনা সংক্রমণের সময় জট নিরসনে জমে থাকা কন্টেইনার ১৯টি কন্টেইনার ডিপোতে স্থানান্তর করতে হয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষকে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুমোদন নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে। কিন্তু এটি নিয়ে বিজিএমইএ এবং বিকডা’র মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এক সংগঠন অন্য সংগঠনের বিরুদ্ধে চিঠি চালাচালি করে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে।

এদিকে ১৯টি কন্টেইনার ডিপোতে রোববার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার জমে আছে ৯ হাজার ৭০০টি। আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার পড়ে আছে ৮ হাজার। এর বাইরে খালি কন্টেইনার জমে আছে প্রায় ৩৪ হাজার। তিন দিনের ধর্মঘটে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে শুধু চট্টগ্রাম বন্দর ও বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোগুলোতে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ ও বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো’ এসোসিয়েশন (বিকডা) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিকডা’র মহাসচিব রুহুল আমীন সিকদার চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘পরিবহন ধর্মঘটের কারণে পণ্যবাহী কন্টেইনার তিন দিন ধরে ডিপোগুলো থেকে আনা-নেওয়া হয়নি। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার কন্টেইনার আনা-নেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতিতে চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘ধর্মঘটের কারণে তৃতীয় দিনের মতো পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ কারণে কন্টেইনার জমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ হাজার ৭৮৩টি কন্টেইনার (টিইইউস) জমে আছে। একদিনের ব্যবধানেই প্রায় ১ হাজার ৮৪১টি কন্টেইনার জমে গেছে। কারণ পণ্য ডেলিভারি না হলেও বন্দরের অপারেশন বন্ধ নেই। জাহাজ থেকে কন্টেইনার খালাস করে ইয়ার্ডে রাখার কাজ চলমান রয়েছে।’

বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯২টি মাদার ভ্যাসেল অবস্থান করছে। বার্থিংয়ে আছে ১৪টি। ৯২টি মাদার ভ্যাসেলের মধ্যে কন্টেইনারবাহী ৮টির পাশাপাশি ১২টি জেনারেল কার্গো রয়েছে। খাদ্যপণ্য বোঝাই মাদার ভ্যাসেল আছে ১০টি। এছাড়া সার বোঝাই আছে ৪টি, চিনি বোঝাই আছে ৩টি। সিমেন্টের ক্লিংকার বোঝাই আছে ২১টি এবং তেলবাহী মাদার ভ্যাসেল আছে ৮টি।

জানা গেছে, গত বুধবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে ডিজেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে সরকার। এ নিয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে ৫ নভেম্বর ভোর ৬টা থেকে বন্ধ রয়েছে বন্দরের পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম।

এমএফও

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm