হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ন্যায়বিচার, সাংবাদিক নুরুল কবিরের ওপর হামলা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ভালুকায় এক পোশাক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী চিরন্তন চিরুর সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী মো. মোরশেদুল আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উত্তর জেলা সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন তালুকদার, নির্বাহী সমন্বয়কারী ইঞ্জি. জাহিদুল আলম, মহানগর সংগঠক নুরুন নেচ্ছা মুন্নি, মো. সোহাগ, সাহাবু উদ্দিন খান, মো. মামুন, ছাত্র ফেডারেশনের নেতা আরিফুল হক আরিফ, শওকত ওসমান তৌকির, পালাশ দে এবং বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংঘটিত একাধিক সহিংস ও দঙ্গলবাজির ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা রহস্যজনকভাবে নীরব। এই নীরবতা নিন্দনীয় ও হতাশাজনক, যা স্পষ্ট করে দেয় যে সরকার গণমাধ্যমকে আতঙ্কের মধ্যে রেখে নির্বাক রাখতে চায়।

বক্তারা জানান, গতকাল রাতে ছায়ানট, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশে শোক ও বিচার দাবির আবহ তৈরি হলেও পরিকল্পিতভাবে একদল দঙ্গলবাজ সেই শোকের সুযোগ নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে যাদের হামলায় জড়িত দেখা গেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

তারা বলেন, কোনো ধরনের হিংসা বা প্রতিহিংসার রাজনীতি তারা চান না। তবে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের কঠোরভাবে দমন ও বিচারের আওতায় আনা জরুরি।

বক্তাদের মতে, এ ধরনের সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা আসন্ন নির্বাচনের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। তারা অভিযোগ করেন, একটি সংগঠিত উগ্র গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা উসকে দিয়ে দেশকে বিভাজনের পথে ঠেলে দিতে চাইছে। নুরুল কবিরের মতো একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, এটি কোনো ক্ষুব্ধ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সুসংগঠিত শক্তির তৎপরতা। ভবিষ্যতে এই সংগঠিত গোষ্ঠী কীভাবে দেশকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ksrm