৪ দিন পরও জ্ঞান ফিরেনি মিরসরাইয়ের সাবেক ইউপি সদস্যের
ফুসফুস ও কিডনিতে ছুরির আঘাত, এখনো জানা যায়নি কারা হামলা করলো
খালপাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের ৪ দিন পরও জ্ঞান ফেরেনি মিরসরাইয়ের সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক মেম্বার আবুল কাশেমের। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) নিখোঁজের চার ঘণ্টা পর রক্তাক্ত অবস্থায় খাল থেকে অচেতন আবুল কাশেমকে উদ্ধার করা হয়।
বুধবার থেকে চিকিৎসা নেওয়া আবুল কাশেম এখনও লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসাপাতালে ৩ বার অপারেশনের পরও শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। সারাজীবন সমাজ সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়া এই মানুষটিকে ৬৫ বছর বয়সে কে বা কারা হত্যার চেষ্টা করছে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে।
জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর রাত ১০টায় ছুরিকাহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করানো হয়েছে। কাশেম সাহেরখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ মঘাদিয়া ঘোনা এলাকার মৃত আলী আকবরের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে মায়ানী ইউনিয়নে অবস্থিত আনন্দ বাজারে যান সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম। সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ তিনি নিখোঁজ হন। ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে রাত ১০টার নাগাদ স্থানীয় মঘাদিয়া খালের পাশে কাদার মধ্যে ছুরিকাহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়।
আহত সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের স্ত্রী বিবি ফাতেমা রবিবার সন্ধ্যায় জানান, হাসপাতালে আমার স্বামীকে নিয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত ৩ বার অপারেশন হয়েছে। কিন্তু এখনো জ্ঞান ফেরেনি। তিনি মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। স্বামীকে হাসপাতালে রেখে এখনো থানায়ও যেতে পারিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ফুসফুসে পানি জমেছে, কিডনী ও মাথায় আঘাত লেগেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী আবুল কাশেমের সাথে স্থানীয় শাহেরখালী ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বেলাল হোসেনের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো। এর আগে কয়েকবার হত্যার হুমকি দিয়েছে। এই বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা রয়েছে। আমাদের ধারণা এ ঘটনা বেলালের নির্দেশে আমার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বেলাল হোসেন বলেন- ‘কাশেম সাহেব গত নির্বাচনে আমার প্রতিপক্ষও ছিলো না। তার সাথে কোনকালে আমার কোন বিরোধ ছিলো না। হয়তো বা আমার কোন বিরোধীপক্ষ কাশেম সাহেবের পরিবারকে ভুল বুঝাচ্ছে।’
মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) মো. অলি উল্ল্যাহকে ফোন দিলে তিনি জানান, আমরা আহত আবুল কাশেমকে চমেক হাসপাতালে দেখে এসেছি। তবে এই ঘটনায় থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে পরবর্তি আইনি প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কেএস