সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সোয়া ৪টায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পরে আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন সিনহা হত্যা মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস।
শারমিন বলেন, রায় ঘোষণা হয়েছে। যে দুইজনের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করেছিলাম তা পূরণ হয়েছে। তবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্টির কথা বলা যাবে না। কারণ যে সাতজনকে খালাস দেয়া হলো, আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, তাদেরও কিছুটা দায়বদ্ধতা ছিল। সে ক্ষেত্রে হয়তো তাদের কিছু সাজা হতে পারত বলে আমার মনে হয়।’
এই মামলায় রায় ঘোষণার সময় সকাল থেকেই কক্সবাজার আদালতে ছিলেন মামলার বাদী শারমিন। রায়ের পরপর আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলমও সাত আসামির খালাসে অসন্তুষ্টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ রায়ে আমরা আংশিক সন্তুষ্ট। কারণ যে সাতজনকে খালাস দেয়া হয়েছে তাদের বেশিরভাগই যাবজ্জীবন যাদের হয়েছে, তাদের সম-অপরাধী। তাই এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।’
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
এ ঘটনায় মামলা করেন সিনহার বোন শারমিন। আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতসহ ১৫ জনকে।
মামলা রায়ে সোমবার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় লিয়াকত ও প্রদীপকে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, নুরুল আমিন, নিয়াজ উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিনকে।
আর মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়েছে এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও কনস্টেবল মো. আব্দুল্লাহ এবং থানা পুলিশের কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও লিটন মিয়াকে।
কেএস