চট্টগ্রামের আকবরশাহে ৩১ মামলার আসামি মো. নুরে আলম ওরফে নুরু নামে এক সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পাহাড় দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় তিনি সাবেক কাউন্সিলর জসিমের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আকবরশাহ থানার এক নম্বর ঝিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র (এলজি) ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
নুরু (৩৫) মূলত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মৃত ধনা মিয়ার ছেলে। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তার পরিবার চট্টগ্রামের ফিরোজশাহ কলোনির নাছিয়া ঘোনা ১ নম্বর ঝিল এলাকায় বসতি গড়ে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে এই বস্তি এলাকায়।
জানা গেছে, ২০১০ সালেও নুরু নগরের ফয়েজ লেক এলাকায় একজন দোকান কর্মচারী ছিলেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় সরকারি খাসজমিতে পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেন। ২০১২ সালের দিকে শুরু করেন পাহাড় দখলের কাজ। প্রথমে ভুয়া কবর তৈরি করে দখল করা জমির ওপর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিতেন। পরে পাহাড় কেটে ঘর বানিয়ে সেগুলো বিক্রি শুরু করেন। এখান থেকেই শুরু তার অপরাধ জগতে প্রবেশ। পরে সময়ে মাদক ব্যবসা, অস্ত্র কারবার, চুরি, ডাকাতি, লুটপাটসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, নুরুর ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম ওরফে জসিমের প্রশ্রয়ে এসব অপকর্ম করে বেড়াতেন।
নুরু এলাকায় ‘নুরু ভাই’ ও ‘ঘোনা’ নামে পরিচিত ছিল। তার অপরাধ সাম্রাজ্যে কাজ করত একদল বেতনভুক্ত কর্মী। কেউ মাদক ব্যবসা, কেউ পাহাড় দখল, কেউ চাঁদাবাজির দায়িত্বে থাকত।
আকবরশাহ এলাকার ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। নাছিয়া ঘোনা, বেলতলি ঘোনা ও ঝিলপাড় এলাকায় তার ছিল শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তার বোন রুবি বেগম ও ভগ্নিপতি আলমগীরও এই মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নুরুর বিরুদ্ধে পাহাড় দখল, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগে মোট ৩১টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে মাদক আইনে ১৮টি মামলা। ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এসব মামলা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরও তার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার মামলা করেছে।
এদিকে নুরুকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আকবর শাহ থানার সামনে জড়ো হয় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। তারা দাবি করেন, নুরুর বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন এবং তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০২০ সালের ২৬ ডিসেম্বর পুলিশ নুরুকে গ্রেপ্তার করতে আকবর শাহ থানার এক নম্বর ঝিলে অভিযান চালায়। কিন্তু নুরু ও তার বাহিনী পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
এরপর ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি নোয়াখালীর চর অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে নুরুকে তার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার দেওয়া তথ্যে ঝিল এলাকা থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, রিভলবার, কিরিচ ও রামদা উদ্ধার করা হয়।
নুরুকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) মাহমুদা বেগম বলেন, ‘নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল শুক্রবার বিকালে নুরুকে গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, পাহাড় কাটা, ডাকাতিসহ অস্ত্র আইনে ৩১টি মামলা রয়েছে।’
জেজে/ডিজে