চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরুয়াপাড়া এলাকায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধে অবৈধ দখলদারদের একের পর এক স্থাপনা গড়ে উঠছে। এসব স্থাপনা পর্যটকদের আকর্ষণ করলেও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সরকারি জমি দখলের এ ঘটনা প্রশাসনের নজরে এলেও এখনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, বেড়িবাঁধে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলোর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাত রয়েছে। এসব স্থাপনা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হলেও, সরকারি সম্পত্তি দখলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এর মধ্যে স্থানীয় ফাহাদ বিন সালেহ ও ইউপি সদস্য মৌলানা মো. ইসহাকের নাম উঠে এসেছে, যারা বেড়িবাঁধে কাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়িবাঁধের জমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, ‘পরুয়াপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধ দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলোর জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে। যদি দখলদাররা নিজ উদ্যোগে স্থাপনা অপসারণ না করেন, আমরা জেলা প্রশাসকের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার সুমী বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি দখল বেআইনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি আমাদের সহযোগিতা চায়, আমরা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুছাইন মুহাম্মদ জানান, ভূমি অফিসের তদন্তে বেড়িবাঁধ দখলের সত্যতা পাওয়া গেছে। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি, এবং বেআইনি দখলদারিত্বের ক্ষেত্রে কোনো আপোস হবে না।
তবে স্থানীয় কিছু কিছু পর্যটকরা মনে করেন, বেড়িবাঁধে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে ভিড় জমাচ্ছেন সেলফি স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে কর্ণফুলী নদীর মোহনা ও সাগরের দৃশ্য উপভোগ করছেন।
এদিকে পারকি বিচের বিনিয়োগকারীরা জানান, সৈকতের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, যেমন—ঝুপড়ি দোকান, ভাসমান হকার, শৌচাগারের অভাব, এবং যানবাহনের পার্কিং সমস্যা পর্যটকদের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে। প্রশাসন যদি পারকি বিচের অবকাঠামোগত উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়, তবে পর্যটনশিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
ডিজে