চট্টগ্রামে প্রবেশন অধ্যাদেশের প্রয়োগ বাড়ছে, ৭ বছরে ৭১৭ মামলা

চট্টগ্রামে প্রবেশন অধ্যাদেশের ওপর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের সিএমএম কোর্টের প্রবেশন কার্যালয়ে উদ্যোগে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মিজানুর রহমান প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল, মো. আবু বকর সিদ্দিক, মোহাম্মদ মোস্তফা ও নুসরাত জাহান জিনিয়া।

সিএমএম কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নাছিমুল আবেদীন চৌধুরী, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার সানজি, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. খুরশেদুল আলম, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহেদুল হক শাহেদসহ চট্টগ্রামে কর্মরত উপজেলা সমাজসেবা অফিসাররা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণের শুরুতে সঞ্চালক সিএমএম কোর্টের প্রবেশন অফিসার মনজুর মোরশেদ চট্টগ্রাম মহানগর অধিক্ষেত্রে আদালতগুলোতে গত দুই বছরে প্রবেশন মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রবেশন অফিসে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট দুটি প্রবেশন মামলা থাকলেও বর্তমানে প্রবেশন মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১৭টি। এজন্য তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মিজানুর রহমান ও অন্যান্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধান প্রশিক্ষক কাজী মিজানুর রহমান প্রবেশন অধ্যাদেশ ১৯৬০ এর গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক এবং তার বাস্তব প্রয়োগগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগে আদালতসমূহ প্রবেশন আদেশ কম দিলেও সুপ্রিম কোর্টের ২০১৯ সালের একটি সার্কুলার ও সুপ্রিম কোর্টে মতি মাতবর বনাম রাষ্ট্র মামলার রায়ের পর সারাদেশে প্রবেশন মামলার সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি তার বিচারিক জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে প্রবেশন অধ্যাদেশের প্রয়োগ আলোচনা করেন।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রবেশন অফিসগুলোতে বাজেট ও জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও বিচারক ও প্রবেশন অফিসারদের প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রবেশন মামলার সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল আলম চট্টগ্রামে প্রবেশন কার্যক্রম দৃশ্যমান করার জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জানান, চট্টগ্রামের প্রবেশন কার্যক্রম স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে।

ksrm