জান্নাতে প্রিয়নবীর সান্নিধ্য: যে ১০ আমল আপনাকে পৌঁছে দেবে

মানুষের জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য হলো জান্নাত লাভ করা এবং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সান্নিধ্য পাওয়া। দুনিয়ার জীবনে সাহাবায়ে কেরাম ব্যতীত আর কেউ তাঁর সরাসরি সঙ্গ লাভ করতে পারেনি। তবে কিছু আমল আছে, যা মুমিন পালন করলে জান্নাতে নবিজির সান্নিধ্য লাভ করতে পারবে। নিচে সেই বিশেষ আমলসমূহ সুশৃঙ্খলভাবে তুলে ধরা হলো।

১. অধিক সেজদা করা

  • রাবিয়া ইবনে কাব (রা.) বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে রাত যাপন করতাম। একদিন তাঁর অজু ও ইসতেনজার জন্য পানি আনলাম। তিনি বললেন: ‘তুমি যা চাইবে চাইতে পারো।’
    আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি জান্নাতে আপনার সঙ্গ চাই।’
    তিনি বললেন: ‘তাহলে বেশি বেশি সেজদা করে আমাকে এ বিষয়ে সাহায্য কর।’

২. এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ

  • সাহাল ইবনে সাদ (রা.) বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
    ‘আমি ও এতিম প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব।’
    (তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দেখিয়ে সামান্য ফাঁক রাখেন।)

৩. কন্যাসন্তান লালন-পালন

  • আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
    ‘যে ব্যক্তি দুটি কন্যাসন্তানের ভরণপোষণ করবে, আমি এবং সে জান্নাতে এভাবে থাকব।’
    (মধ্যমা ও শাহাদাত আঙুল পাশাপাশি রাখেন।)

৪. বোনদের প্রতিপালন

  • আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন: রাসুল (সা.) ইশারা করে বলেন,
    ‘যে ব্যক্তি দুই বা তিন কন্যা কিংবা দুই বা তিন বোনের ভরণপোষণ করবে যতক্ষণ না তারা বিবাহিত হয় অথবা সে মৃত্যুবরণ করে, আমি এবং সে জান্নাতে পাশাপাশি থাকব।’

৫. উত্তম চরিত্র ও আচরণ

  • আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন: রাসুল (সা.) বলেছেন,
    ‘কেয়ামতের দিন আমার নিকটতম হবে সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।’

৬. নবীজির প্রতি ভালোবাসা

  • আনাস (রা.) বলেন: এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ‘কেয়ামত কখন হবে?’
    রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি কেয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?’
    সে বলল, ‘কোনো বিশেষ আমল নেই, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসি।’
    তিনি বললেন: ‘তুমি তাদের সঙ্গেই থাকবে যাদের তুমি ভালোবাসো।’

৭. অধিক দরুদ পাঠ করা

  • আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন: রাসুল (সা.) বলেছেন,
    ‘যে আমার ওপর বেশি দরুদ পাঠ করবে, সে কেয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটে থাকবে।’

৮. তাকওয়া অবলম্বন করা

  • মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন: রাসুল (সা.) তাঁকে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় বললেন,
    ‘আমার সর্বাধিক নিকটতম হলো সে, যে আল্লাহভীরু জীবন অবলম্বন করে—সে যে-ই হোক এবং যেখানেই থাকুক।’

৯. দোয়া করা

  • আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: আমি নফল নামাজ শেষে আল্লাহর হামদ-ছানা করি, নবিজির প্রতি দরুদ পাঠ করি এবং দোয়া করি। রাসুল (সা.) বলেন,
    ‘দোয়া কর, তা কবুল করা হবে; যা চাইবে, তা দেওয়া হবে।’

১০. নবিজির আনুগত্য করা

  • ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন: এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি, আপনাকে স্মরণ করি। জান্নাতে যদি আপনাকে না দেখি, আমার কষ্ট হবে।’
    তখন সূরা নিসা, আয়াত ৬৯ নাজিল হলো:
    ‘আর যারা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করে, তারা থাকবে নবি, সিদ্দিক, শহিদ ও সৎকর্মশীলদের সঙ্গে। আর তারাই উত্তম সঙ্গী।’

উপসংহার
মোটকথা, আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি ভালোবাসা, তাদের আনুগত্য, সৎকর্ম, সেজদা, দরুদ পাঠ, এতিম প্রতিপালন, এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে জান্নাতে নবিজির সান্নিধ্য লাভ সম্ভব। সাহাবায়ে কেরাম যেমন এটি কামনা করতেন, আমরাও যেন সেই তাওফিক পাই।

মহান আল্লাহ আমাদের এ আমলগুলো পালন করার তাওফিক দান করুন এবং জান্নাতে নবিজির সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm