নিপুণ কৌশলে পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতো ভারতীয় জাল রুপির চালান। কখনও শুঁটকি মাছ, মোজাইক পাথর, কখনও আবার নির্মাণসামগ্রীর বস্তায় করে এসব জাল ভারতীয় রুপি চট্টগ্রাম বন্দরে ঢুকতো। আমদানিকারকদের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারের মাধ্যমে এগুলো আনা হতো। এসব জাল নোট এতটাই সূক্ষ্ম যে, আসল নোটের প্রায় কাছাকাছি।
এই পুরো কাজটিই করেন ফজলুর রহমান। বাড়ি তার বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে হলেও তিনি বসবাস করেন পাকিস্তানের করাচিতে। তার সহযোগী ভাই সাইদুর রহমান, নোমানুর রহমান এবং ভগ্নিপতি শফিকুর রহমান।
এভাবে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানকেন্দ্রিক মাফিয়াদের কাছ থেকে ভারতীয় জাল রুপির চালান সংগ্রহ করে কনটেইনারের ভেতরে করে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসা হচ্ছিল।
পরবর্তীতে সেই জাল রুপি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে গোডাউনে মজুত করা হতো। সেখান থেকে ডিলারদের মাধ্যমে ভারতীয় জাল রুপির সুপার নোটগুলো (৫০০/১০০০) বিভিন্ন পণ্যের ভেতর, ব্যক্তি বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকা দিয়ে পাচার করে আসছিল। এই জাল নোট বিক্রির টাকা আবার হুন্ডিতে করে পাচার করা হতো পাকিস্তানেই।
গত ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ডেমরা ও হাজারীবাগ এলাকা থেকে ভারতীয় জাল নোট তৈরির আন্তর্জাতিক চক্রের চার সদস্যকে ধরার পর এসব তথ্য জানা গেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন— আমানুল্লাহ ভূঁইয়া (৫২), কাজল রেখা (৩৭), ইয়াসিন আরাফাত কেরামত (৩৩) এবং নোমানুর রহমান (৩১)।
এর মধ্যে আমান উল্লাহ ভূঁইয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সরকারি গাড়িচালক। কাজল রেখা হলেন আমান উল্লাহ ভূঁইয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৫ লাখ ভারতীয় রুপির জাল সুপার নোট ছাড়াও কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সিপি