চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ এক ছিনতাইকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এই চক্রটি ছিনতাই কাজে ব্যবহার করে প্রাইভেট কার। এই কাজে তারা বেছে নেয় গভীর রাতকে। রাতে জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া ব্যক্তিরাই তাদের মুল টার্গেট৷ আবার যেসব দোকান রাতে খোলা থাকে সেসব দোকানে তারা চালায় ডাকাতি। নির্বিঘ্নে এসব কাজ সম্পাদন করতে তারা মানত করে মাজারেও।
বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ চার দিন ধরে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- নোয়াখালী সদর থানার নোল্লা বাজারের লাল মিয়া সওদাগর বাড়ির মৃত শফিক উদ্দীনের ছেলে বেলাল হোসেন আসলাম (২৭), সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী খাদেম পাড়ার আমির কোম্পানি বাড়ির মো.সুলতান আহমেদের ছেলে মো.তানভীর ইসলাম রোকন উদ্দীন (২৭), জঙ্গল সলিমপুর লতিফ নগর এলাকার মো.শফি আলম প্রকাশ শামসুল আলমের ছেলে কামাল উদ্দীন প্রকাশ মহিউদ্দীন (২৮) ও রাঙ্গুনিয়ার রানিরহাট বগারবিল এলাকার মো.জামালের ছেলে মো. সোহেল (৩০)।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে সংবাফ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন সিএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান।
এতে জানানো হয়, নগরজুড়ে রাত ১০টার পর যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে এলে গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাইভেটকার যোগে টহল দেয়। পথচারী ও জরুরি প্রয়োজনে খোলা থাকা বিভিন্ন দোকানে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। কেউ ছিনতাইয়ে বাধা দিলে চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তৈরি সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ছিনতাইকারী দলের এক সদস্য ওষুধ কেনার জন্য গিয়েছিলেন হাফজা হানিফ মেডিসিন ওশান ফার্মেসীতে। এরপর ঢুকে পড়েন আরও তিন সদস্য, উদ্দেশ্য ডাকাতি। ফার্মেসীর মালিক-কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটে নিয়েছে ট্যাব, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা। নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন কাঁচাবাজার এলাকায় সম্প্রতি এই ডাকাতি করে তারা।
গ্রেপ্তারকৃতরা ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার দিকে সীতাকুণ্ডে যাওয়ার কথা বলে নগরের অলংকার মোড় থেকে প্রাইভেটকার ভাড়া করে। কৌশলে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় প্রাইভেটকারের চালক ইলিয়াছকে নিয়ে এসে জিম্মি করে। এরপর ইলিয়াছের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবাকে ফোন করে প্রাইভেটকারটি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। অল্প সময়ের মধ্যে এত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাংয়েজিদ লিংক রোডে রাত ৮টার দিকে চালকের বিকাশ নাম্বারের পাসওয়ার্ড জেনে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও নিয়ে নেয়।
উপ-কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা ছিনতাইয়ে সফলতার জন্য ফটিকছড়ি বাজারে গিয়ে একটি মাজারে মানত করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বায়েজিদ-অক্সিজেন কাঁচা বাজার এলাকায় ফার্মেসী থেকে ৭০ হাজার টাকা, একটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর মুরাদপুর এলাকা থেকে একজন রিকশা যাত্রীর মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। এর পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা থেকে সারা রাত নগরীত রাস্তায় প্রাইভেটকার নিয়ে ঘুরে ঘুরে ১০-১২টি স্থানে ছিনতাইও করে।’।
৯৬ ঘন্টার অভিযান শেষে ছিনতাকারী দলের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পাঁচলাইশ জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শাহ আলম, পুলিশ পরিদর্শক মো.খাইরুল ইসলাম, বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই মো. আজহারুল ইসলাম, রানা প্রতাপ বণিক, শাহ আলম, এএসআই মো. আব্দুল মালেক ও আল আমিন।
আরএ/এমএফও