সিঙ্গাপুরে এস আলম পরিবার, কানাডায় লাবু— পালানোর পরে এলো দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রামভিত্তিক বিতর্কিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদসহ তার ছেলে-মেয়ে-জামাতা, ভাই ও বেয়াইসহ মোট ১১ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। যদিও তাদের প্রত্যেকেই গত ৫ আগস্টের আগে ও পরে বাংলাদেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছেন। সাইফুল আলম মাসুদ নিজে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন। তার ভাই আবদুস সামাদ লাবু কানাডায় বিপুল সম্পদ গড়ে সেখানেই থাকছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) অর্থঋণ আদালত-১ চট্টগ্রামের বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন ঋণ খেলাপের এক মামলায় ইসলামী ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার এই আদেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ পুলিশ সুপার (অভিবাসন) শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এস আলম পরিবারের যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন সাইফুল আলম মাসুদের বড় ছেলে আহসানুল আলম মারুফ, বড় মেয়ে মায়মুনা খানম, মেয়ের জামাই ইউনিটেক্স স্টিল মিলের শেয়ারহোল্ডার বেলাল আহমেদ, মেয়ের শ্বশুর ইউনিটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান হানিফ চৌধুরী, ভাই আবদুস সামাদ লাবু, আবদুল্লাহ হাসান, ওসমান গণি ও রাশেদুল আলম। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ইউনিটেক্স গ্রুপের পরিচালক মোহাইমেনুল ইসলাম চৌধুরী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল্লাহ কায়সার।

ইউনিটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইউনিটেক্স স্টিলের বিরুদ্ধে গত ৩ জুন ইসলামী ব্যাংক এই মামলা করে। ২০২২ সালে ইসলামী ব্যাংক পাহাড়তলী শাখা থেকে ইউনিটেক্স স্টিলের নামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ৭৩১ কোটি ৬৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ঋণের অনুপাতে ব্যাংকে নামমাত্র সম্পত্তি বন্ধক রেখে বিপুল অংকের এই ঋণ নেওয়া হয়। চট্টগ্রামভিত্তিক ইউনিটেক্স গ্রুপের এই অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী ও তার ছেলে বেলাল আহমেদ। সম্পর্কে দুজন যথাক্রমে সাইফুল আলম মাসুদের বেয়াই ও মেয়ের জামাই।

২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন কৌশলে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে হাতিয়ে নিয়েছে।

গত ৯ জুলাই সাইফুল আলম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। এর আগে গত বছরের ৭ অক্টোবরও এস আলম পরিবারের ১৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন ঢাকার একটি আদালত।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm