৬১ বছরের ঐতিহ্যবাহী মির্জাখীল স্কুলে অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু

৬১ বছরের ঐতিহ্যবাহী মির্জাখীল উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে অ্যালামনাই এসোসিয়েশন। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল দিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসা এই বিদ্যালয়টি এখন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।

৬১ বছরের ঐতিহ্যবাহী মির্জাখীল স্কুলে অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু 1

৩১ মার্চ বিকেলে মির্জাখীল হাই স্কুল এন্ড কলেজ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন উপলক্ষে এক সভা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

৬১ বছরের ঐতিহ্যবাহী মির্জাখীল স্কুলে অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু 2

এতে সর্বসম্মতিক্রমে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আব্বাস উদ্দীন চৌধুরীকে আহ্বায়ক, অধ্যাপক সাজ্জাদুল হক চৌধুরীকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং স্কুলের শিক্ষক মুহাম্মদ বেলাল উদ্দীন চৌধুরীকে সদস্য মনোনীত করা হয়।

এছাড়া অ্যাডহক কমিটিতে হুমায়ুনুল কিবরিয়া চৌধুরীকে (১৯৯০ ব্যাচ) নতুন সদস্য, আফলাতুন নেছা চৌধুরী জুবলী (শিক্ষিকা ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী) ও সালেহা বেগমকে মহিলা সদস্য এবং ১৯৯৭ ব্যাচের মেহের আলী (সৌদী আরব) ও ১৯৯৮ ব্যাচের মুহাম্মদ জাবেদ হোছাইনকে (আরব আমিরাত) প্রবাসী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়। এছাড়াও একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং দুজন করে ব্যাচ প্রতিনিধিকে অ্যাডহক সদস্য হিসেবে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তার মধ্যে রয়েছে— মির্জাখীল উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে অন্তত এক বছরের জন্য হলেও অধ্যয়ন থেকে সর্বোচ্চ এইচএসসি পাস করা পর্যন্ত যেকোনো প্রাক্তন শিক্ষার্থী এ এসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্য হতে পারবেন, ৫০০ টাকা ফি দিয়ে অনলাইন ও ম্যানুয়ালি সদস্য অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে এসোসিয়েশনের নিবন্ধন গ্রহণ, তিনজনের যৌথ নামে ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলা।

সভায় এসোসিয়েশনের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পেইজ খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি শীঘ্রই একটি পুনর্মিলনী আয়োজনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। সভায় জানানো হয়, আগামী ১৮ এপ্রিল রাত ১০টায় এসোসিয়েশনের অগ্রগতি নিয়ে অ্যাডহক কমিটির জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত ২৬ মার্চ বিকেলে মির্জাখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে এক ইফতার পার্টি ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবির তাসফিয়া গার্ডেন রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত ওই ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়— আইআইইউসির রেজিস্ট্রার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোহাম্মদ কাশেম, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সমাজসেবক কফিলউদ্দিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার জালাল উদ্দীন চৌধুরী, ডা. আব্বাস উদ্দীন চৌধুরী, জাহেদুল হক চৌধুরী, মাস্টার আবদুস সবুর, অধ্যাপক সাজ্জাদুল হক চৌধুরী, দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের রিজিওনাল হেড মোহাম্মদ আকতার হোছাইন দুলাল, এডভোকেট আবদুর রহিম, শিহাব উদ্দিন নোমানী, মাস্টার নুরুল কবির চৌধুরী কাঞ্চন প্রমুখ।

১৯৬৪ সালে ২০-২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে মির্জাখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির পাঠদান শুরু হয়। পরে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চালু হয়। ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি নিম্নমাধ্যমিক স্বীকৃতি লাভ করে। ১৬ বছর পার হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৮১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এবং কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি লাভ করে। ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। মোট ০.৮২ একর জায়গার ওপর বিস্তৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একাডেমিক ভবনগুলো ০.২৪ একর জায়গার ওপর নির্মিত।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm