২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওসি পদে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর হয়ে যান বদলি। পাঁচ বছর পর আবারও সেই থানায় ফিরে এলেন তিনি। না, অন্য কোনো পদে নয়, সেই ওসি পদেই ফিরলেন তিনি। এভাবে একই থানায়, একই পদে দুবার দায়িত্ব পালনের নজির দেশের কোথাও আছে কিনা জানা নেই খোদ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও।
‘ভাগ্যবান’ সেই ওসির নাম এসএম শহিদুল ইসলাম। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি ওসি হয়ে এসেছিলেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায়। ২০১৮ সালের ৩ জুলাই তিনি বদলি হন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে চোরাচালান, মাদকপাচার, টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ ওঠে।
অবাক হলেও সত্য, সেই শহীদুলই ওসি হয়ে আবার ফিরেন ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর। যোগ দেন সেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায়। এরপর এখনও তিনি দায়িত্বে আছেন। অথচ গত বছরের ৫ আগস্টের পর সব জায়গায় পরিবর্তন হলেও বহাল তবিয়তে আছেন তিনি।
এদিকে ওসি পদায়নে ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে পলিসি গ্রুপের সভায় ৯ দফা নির্দেশনা-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই শেষে একই বছরের ১৮ মে তৎকালীন আইজিপি একেএম শহীদুল হক স্বাক্ষরিত পরিপত্রে (নং১/২০১৫)নির্দেশনা জারি করা হয়। সেই নির্দেশনাগুলোর মধ্যে ছিল—একজন ওসি প্রথম বার কোনো এক থানায় দায়িত্ব পালন করে গেলে, সেখানে দ্বিতীয়বার আসতে পারবেন না।
তবে অভিযোগ উঠেছে, শহিদুল ইসলামের সঙ্গে রেলস্টেশনে এলাকার অপরাধীদের সঙ্গে সখ্যতার রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে স্টেশন এলাকার আলোচিত মনা হত্যা মামলার আসামি জুয়েলসহ অন্যদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। মূলত জুয়েল ও মনার মধ্যে মাদক ও চোরাকারবারি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ খুনের ঘটনা ঘটে। আসামিদের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা নিচ্ছেন ওসি শহিদুল—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে এমনটি দেখা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি এসএম শহিদুল ইসলামকে ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া মেলেনি।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ সুপার শাকিলা সোলতানার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সবে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। জেনে ব্যবস্থা নেবো।’
ডিজে