কর্ণফুলী নদী দখল ও দূষণরোধে ঐতিহ্যবাহী সাম্পান বাইচ প্রতিযোগিতার ১৯তম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ দলের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ১ম স্থান হয়েছে ইছানগর কর্ণফুলী ঘাটের মো. ইউছুফের দল। এ আয়োজনের অংশ হিসেবে চরপাথরঘাটার পুরাতন ব্রিজঘাট সিডিএ মাঠে চলছে চার দিনের চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলা। এ সাম্পান বাইচ দেখতে দুইঘাটে হাজারো মানুষের সমাগম হয়।
রোববার (১১ মে) ৬টা থেকে কর্ণফুলী নদীর ফিরিঙ্গী বাজার ঘাট থেকে চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাটে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে চাম্পান বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রীস মিয়া।
দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও হালদা নদী রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর এ সাম্পান বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আয়োজকরা। এ বছরও নদীর উত্তর পাড় ফিরিঙ্গিবাজার ঘাট থেকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের চরপাথরঘাটা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
সাম্পান বাইচ দেখতে দু’পাড়ে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। সরাসরি সামনে থেকে সাম্পান বাইচ উপভোগ করতে মাঝ নদীতে সাম্পান ভাড়া করে শত শত মানুষ। তবে সাম্পান বাইচ প্রতিযোগিতার শেষ মুহুর্তে একটি সাম্পান ভুবে যায়। সাম্পান ডুবার আগমুহূর্তে যাত্রীগণ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে যার জন্য হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সাম্পান বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন কর্ণফুলী এবং আশেপাশের উপজেলার ১১ দল অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ১০দলকে পেছনে ফেলে ১ম হয় ইছানগর কর্ণফুলী ঘাটের মো. ইউছুফের দল। সাম্পান খেলায় দ্বিতীয় হন বোয়ালখালীর মো. রনি এবং তৃতীয় হন চরপাথরঘাটার তারেক মিস্ত্রি।
এছাড়া অংশগ্রহণকারী অন্য মাঝিরা হলেন—মো. আমজাত ও সুমন একাদশের মাঝি দিদার আলম, চর পাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক কল্যাণ সমিতি মো. হামিদুল মাঝি, তোতার বাপের হাট মো. রুবেল মাঝি চরপাথরঘাটা, দল ব্লকপাড়া শিকলবাহার মাওলানা ইসমত উল্ল্যাহ শাহ, সদরঘাট সাম্পান মালিক কল্যাণ সমিতির র, আলী শাহ শিকলবাহা ব্লক পাড়ার নুর মোহাম্মদ মতি, মো. মুন্না মাদ্রাসা পাড়া ১ নম্বর গেটের মোহাম্মদ মহসিন।
এর আগে শুক্রবার বেলা ১১ টা থেকে কর্ণফুলী নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে শতাধিক সাম্পান কর্ণফুলী রক্ষার দাবিতে ১৯ তম ‘সাম্পান শোভাযাত্রা’র আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সংস্কৃতি মেলা ১৪৩২ বাংলার চার দিনের অনুষ্ঠান মালার ‘বিনি সুতার মালা’ দিয়ে শুরু হয়। সকালে মঞ্চে সদরঘাট থেকে পটিয়া বোয়ালখালী ও কালুরঘাট এলাকার এক ঘাট থেকে অন্যঘাটে ঘুরে ঘুরে বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পীদের গান আবৃত্তি দিয়ে ৫০ কিলোমিটার ব্যাপী উভয় তীরের নদী তীরের বাসিন্দা এবং নদী ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও প্রীতির বন্ধনে গাঁথা হয় ‘বিনি সুতার মালা’য়।
উপস্থিত বক্তারা চট্টগ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারকবাহক এই চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলার আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
আরএ/ডিজে