চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠে ইজারা ছাড়াই বসানো একটি পশুর হাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ হয়েছে রিয়াদ হোসেন নামে এক কিশোর। অনুমোদন না থাকার পাশাপাশি ছিল না কোনো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনাও।
বুধবার (৪ জুন) বিকালে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা। তবে এমন ঘটনার পরও প্রশাসনের কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি।
আহত রিয়াদের (১৫) অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বড়উঠানের বাসিন্দা রিয়াদ বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে হাটে গিয়েছিল। হাটের ভেতরে হেঁটে যাওয়ার সময় হাসপাতালের দেয়ালঘেঁষে ঝুলে থাকা একটি খোলা বৈদ্যুতিক তারে হাত লাগাতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে।
বাজারটি ‘ফকিরনীর হাট’ নামে পরিচিত। প্রতি বুধবার এখানে হাট বসে। তবে এটি কোনো সরকারি ইজারাভুক্ত হাট নয়। বরং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় ‘অনুমোদন’ নিয়ে মাঠ দখল করে চলছে পশু কেনাবেচা।
জানতে চাইলে বড়উঠান ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বাজারটির কোনো ইজারা নেই। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু মানুষ সহযোগিতা করছে।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা বলেন, ‘সড়কে যানজট এড়াতে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোর দগ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
তবে দুর্ঘটনার পরও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি—বিদ্যুৎ লাইনের মালিকানা কার! পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ—উভয় সংস্থাই দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একপক্ষ বলছে, ‘ওটা আমাদের না’, আরেকপক্ষের জবাব, ‘এটা ওদের’।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জেবুন নেসা বলেন, ‘বিষয়টি আগে জানতাম না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাঠটি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন ঘটনার তদন্ত করবো।’
প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি হাসপাতালের সীমানায় ইজারাবিহীন হাট, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ছাড়াই লাইনের ব্যবহার এবং অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও কেন নীরব ভূমিকায় প্রশাসন।
জেজে/ডিজে