চট্টগ্রামে ‘ওমানি রিয়াল’ গ্যাংয়ের ভয়ংকর ফাঁদ, ১০০ বাইসায় ২৫ হাজার টাকা!
চট্টগ্রামে পথে পথে প্রতারকচক্র সক্রিয়
চট্টগ্রাম নগরে ওমানের মুদ্রা কম দামে বিক্রির নতুন প্রতারণা শুরু হয়েছে। এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে। এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৫ মে) দিনে ও রাতে নগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন—নূর মোহাম্মদ রানা (৪৭), মো. ইয়ার হোসেন ওরফে রানা (৪১), জয়নাল আবেদীন (৪০), মো. জাহান খান ওরফে সুমন (৩৫) ও মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে তপু (২৬)। জয়নাল আবেদীন অটোরিকশা চালক। বাকিরা তার সহযোগী। তারা পথচারী বেশে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়।
পুলিশ জানিয়েছে, রোববার রাতে পাহাড়তলী থানার ফইলাতলী বাজার ফজলুল হাজেরা ডিগ্রি কলেজ রোডের সালাউদ্দিনের গ্যারেজ থেকে নূর মোহাম্মদ রানা (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
এরপর নূর মোহাম্মদ রানার দেওয়া তথ্যে আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী চুমকি গার্মেন্টসের বালুর মাঠের পাশ থেকে মো. ইয়ার হোসেন ওরফে রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইয়ার হোসেনের দেওয়া তথ্যে কোতোয়ালী থানার কোর্ট বিল্ডিং এলাকা থেকে জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছে থাকা ১০০ বাইসা মূল্যমানের ১৭টি ওমানের মুদ্রা এবং নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যে ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ শিশু পার্কের সামনে থেকে মো. জাহান খান ওরফে সুমন ও মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে তপু গ্রেপ্তার করা হয়।
থানা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সুমন কান্তি দাশ (৩৭) পাঁচলাইশ থানার ‘নাহার আইটি পার্ক’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত ২১ মে দামপাড়া পুলিশ লাইনের উদ্দেশ্যে বের হয়ে ওআর নিজাম উদ্দিন রোডের এভিনিউ সেন্টার বিল্ডিংয়ের সামনে পৌঁছালে বিকাল ৪টার দিকে একটি সিএনজি অটোরিকশা তার সামনে এসে দাঁড়ায়। এসময় গাড়ি চালক তাকে ওমানের ১০০ বাইসার ১টি নোট দেখিয়ে এই মুদ্রা ভাঙানোর জন্য মানি এক্সচেঞ্জ কোথায় আছে জানতে চান। তিনি কোনো কিছু বলার আগেই পাশে থাকা আরও দুই ব্যক্তি এসে পাশের একটি ব্যাংকে ভাঙানো যাবে বলে বাইসাটি নিয়ে চালককে ৫ হাজার টাকা দেয়। তখন চালক ও ওই দুই ব্যক্তি সুমনকে একটি ওমানের ১০০ বাইসার মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ২৫ হাজার টাকা হবে বলে জানায়। এছাড়া অটোরিকশা চালক তাকে ওমানের ১০০ বাইসার আরও ১০টি নোট দেখিয়ে তার টাকার দরকার, নেবে কিনা জিজ্ঞাসা করেন।
এসময় ভুক্তভোগী রাজি না হয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন প্ররোচণায় রাজি হয়ে তার নিকট থাকা অফিসের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ওমানের মুদ্রার ১০টি নোট নেন। এসময় প্রতারকরা ওয়ান ব্যাংক জিইসি শাখায় মুদ্রাগুলো এক্সেচেঞ্জের পরামর্শ দিয়ে ওই সিএনজি অটোরিকশা করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এরপর ভুক্তভোগী ওয়ান ব্যাংকে গিয়ে মুদ্রার এক্সেচেঞ্জের কাউন্টার কোথায় জানতে চাইলে ব্যাংকে মানি এক্সেচেঞ্জ হয় না এবং মুদ্রাগুলোর মূল্য ৩০০ টাকা হবে বলে জানানো হয়। এসময় ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপর তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ফোনে ঘটনার বিষয়ে জানান এবং তিনি ঘটনাস্থলে এসে জাতীয় জরুরি সেবা (৯৯৯) এ ফোন করলে ঘটনাস্থলে চকবাজার থানা পুলিশ যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সিএনজি অটোরিকশাসহ জড়িত দুজনকে শনাক্ত করেন। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির জানান, গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরস্পর যোগসাজশে বিদেশি মুদ্রা অবৈধভাবে এনে পথচারী সেজে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ৩ মার্চ নগরীর পাঁচলাইশে ওমানের মুদ্রা দেখিয়ে টাকা হাতানো এ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—জয়নাল আবেদীন, জাহান হোসেন, এয়ার হোসেন ও মিজানুর রহমান।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জিইসি এলিট পেইন্টের সামনে ওমানের মুদ্রার প্রলোভন দেখিয়ে সানমার ওশান সিটির দোকানের এক বিক্রয়কর্মীর কাছ থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এ চক্র।
ডিজে