রোহিঙ্গাদের ত্রাণসামগ্রী পাচারের চেষ্টা, চারজনকে অর্থদণ্ড ৪ লাখ

কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গাদের জন্য নির্ধারিত আন্তর্জাতিক সহায়তাসামগ্রী পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করার অভিযোগে চারজনকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অভিযানে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার বালুখালী ও কুতুপালং এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হোসেন চৌধুরী এ অভিযান চালান।

অভিযানে জব্দ করা ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—চাল, চিনি, ডাল, তেল, সাবান ও পুষ্টি উপকরণ। যেগুলো জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত চারজন হলেন—উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ছড়া এলাকার ফরিদ আলমের ছেলে মুফিদুল আলম (৩৫), একই গ্রামের মকতুল আহমদের ছেলে ইউনুছ আলী ও উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং গ্রামের মৃত আশরাফ আলী ছেলে আলী হোসেন ও একই ইউনিয়নের দরগাহবিল গ্রামের সৈয়দ কাশেমের ছেলে ইসমাইল হোসেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তারা রোহিঙ্গা শিবির থেকে বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করা ত্রাণসামগ্রী নিজেদের গুদামে মজুদ করে তা সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারে পাচার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই কর্মকাণ্ড ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬’ এর ধারা ৬ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করে।

উখিয়ার ইউএনও মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা পাচারের চেষ্টা একটি গর্হিত ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই ধরনের অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চলবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু অসাধু ব্যক্তি রোহিঙ্গাদের দেওয়া ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে মজুদ ও পাচার করে আসছিল।

জব্দ করা পণ্যগুলো সংরক্ষণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপজেলা প্রশাসন।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm