চট্টগ্রামে ১০ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) আরও ১১ হাজার ইউনিফর্ম উদ্ধার করেছে পুলিশ। মার্চ মাস থেকেই চলছিল পোশাক তৈরির কাজ।
৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (২৭ মে) এসব পোশাক উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ১৭ মে রাতে একই এলাকার ‘রিংভো অ্যাপারেলস’ নামে একটি পোশাক কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০টি ইউনিফর্ম জব্দ করে পুলিশ। পুলিশের এই অভিযান ও জব্দের বিষয়টি ঘটনার সাত দিন পর জনসম্মুখে আসে। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলামসহ তিনজন। অপর দু’জন হলেন—গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দার, যারা ইউনিফর্ম তৈরির অর্ডার এনেছিলেন।
পুলিশ জানায়, ১৮ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারজনকে আসামি করে বায়েজিদ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই ইকবাল হোসেন মামলার বাদি। চতুর্থ আসামি রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের মংহ্লাসিং মারমা (৩৭), যিনি কেএনএফ সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, মার্চ মাসে ২ কোটি টাকার বিনিময়ে ইউনিফর্ম তৈরির কাজ নেন গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দার। অর্থদাতা ছিলেন মংহ্লাসিং মারমা ও তার সহযোগীরা, যারা কাপড় সরবরাহ করেন এবং ইউনিফর্ম তৈরির অর্ডার দেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩১ হাজার ৩০০ ইউনিফর্ম উদ্ধার কেএনএফ-এর সদস্যসংখ্যা, অর্থায়ন উৎস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি সদস্যের জন্য গড়ে দুটি ইউনিফর্ম ধরলে কেএনএফ’র সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার। এটি কেবল একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রস্তুতি নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত। কেউ না কেউ তাদের বড় অর্থায়ন করছে।’
সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশনের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম উদ দৌল্লাহ বলেন, ‘পুরো বম জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১০-১২ হাজার। তাহলে ৩১ হাজার পোশাক কোথা থেকে, কেন—তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’
এদিকে পোশাক কারখানারকর্মীরা জানান, মার্চ মাস থেকেই ইউনিফর্ম তৈরির কাজ চলছিল। তারা বলেন, ‘আমরা অর্ডার পেয়েছি, কাপড় পেয়েছি, সুইং করেছি। এগুলো কারা নিচ্ছে বা কোথায় যাচ্ছে, সে খোঁজ আমরা রাখিনি।’
বায়েজিদ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান ও ডিবি পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেয়নি, যা নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা রয়েছে।
জেজে/ডিজে