চট্টগ্রামে মিরসরাই উপজেলায় পুলিশের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালিয়েছে একদল ভূমিদস্যু দুর্বৃত্ত।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মিরসরাই উপজেলার বামন সুন্দর দারোগারহাট এলাকায় নিজ বাড়ির পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর হামলার এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, দাবিকৃত জায়গা দলিল মূলে ১৯৪৯ সাল থেকে ভোগদখল করে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবার। কিন্তু ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট ভূমি দখল করতে অপতৎপরতা শুরু করে ভূমিদস্যু শহিদুল ইসলাম ভুট্টু, মিজান, মঞ্জুর আলম, ছোটন, ছাইদুল্লাহ, সাইফুল, ওমর ফারুক, ইউসুফ, ফরিদসহ আরও অনেকে। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। দুই দফা বৈঠকের পর সালিশের তারিখ আগামীকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) নির্ধারণ করা হলেও অভিযুক্তরা সেটি না মেনে বৃহস্পতিবার সকালে সালিশ বসাতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমান পরদিনের পূর্বনির্ধারিত সালিশের কথা মনে করিয়ে দিলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি গাছগাছালি কাটতে শুরু করে।
পরে মোস্তাফিজুর জাতীয় জরুরি সহায়তা সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়ার পর জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তোয়াক্কা না করেই ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর গাছকাটার দেশীয় অস্ত্র দা-চুরি ও লাঠিসোঠা নিয়ে অতর্কিত হামলা করে।
ঘটনা প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি দলিল মূলে জায়গার মালিক। এরপরও তাদের দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কথা মেনে নিয়ে সালিশে বসি এবং কাগজপত্রে ওরা পেয়ে থাকলে দখল ছেড়ে দেবো বলি। কিন্তু ৭নং কাটাছড়া বিএনপির আহবায়ক নুরুল আলম মেম্বারের ছত্রচ্ছায়ায় তারা তা না মেনে আমার গাছগাছালি কাটতে শুরু করলে আমি জাতীয় জরুরি সেবায় আমার বড় ছেলের মাধ্যমে আইনের আশ্রয় চাই। কিন্তু তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করতে আসে। আমি দৌড়ে না সরে গেলে হয়তো জীবিত থাকতাম না। আমরা ১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন ও সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়তে যুদ্ধে গিয়েছি। তাই দেশের আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল ও আস্থাশীল। আশা করি দেশের আইনের মাধ্যমে আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাবো।’
অন্যদিকে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা কেউ কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ এএসআই (নিরস্ত্র) ছালাহ্ উদ্দিন জানান, ‘মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি আমি অবগত না। তবে জাতীয় জরুরি পরিসেবা থেকে কল পেয়ে ওই এলাকায় জায়গাজমি বিরোধ সংক্রান্ত একটি ঘটনায় বাকবিতণ্ডা হয়েছে।’