চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফের পদত্যাগ এবং নয় ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই জোরালো রূপ নিচ্ছে।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে দেওয়া প্রক্টর আরিফের বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্টের পোস্টার প্রদর্শনী করেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, যারা মব হামলা চালায়, তাদের কোনো বিচার হয় না। যারা অন্যায় করে, তাদের বিচার হয় না। কিন্তু যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে তাদের বহিষ্কার করা হয়। এ ধরনের নতুন ফ্যাসিবাদের উত্থান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটতে দেওয়া হবে না। এই প্রক্টরকে পতদ্যাগ করতে হবে, কুরুচিপূর্ণ মনোভাবের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন বহিষ্কৃত পাঁচ শিক্ষার্থী। এ সময় তারা বলেন, ‘বহিষ্কারের আগে ছাত্রীদের কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি প্রশাসন। অথচ ছাত্রলীগ নেতাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছে। যদি এই বহিষ্কার আদেশ বাতিল না হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচিতে যাবো আমরা।’
সংবাদ সম্মেলনে এক শিক্ষার্থী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু তদন্ত প্রত্যাশা করছি। তাই নতুন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি। নতুন কমিটিতে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন শিক্ষক রাখতে হবে। আর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও একজন প্রতিনিধি রাখতে হবে।’
এ সময় প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফকে অপসারণ করে ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বিকাল ৪টায় উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারকে চিঠি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফের পদত্যাগ ও ৯ ছাত্রীর বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মশাল মিছিল করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা ৯ ছাত্রীর বহিষ্কারের আদেশও বাতিলের দাবি তোলেন। সন্ধ্যা ছয়টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে ওরু হওয়া মিছিলটি কাটাপাহাড় সড়ক, প্রক্টর কার্যালয় ঘুরে ছাত্রী হলের দিকে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হলের সামনের সড়কে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া এ সময় বলেন, ‘এই প্রহসনের বহিষ্কার দেখেও চুপ করে থাকলে কাল হয়তো আপনারাও ভুক্তভোগী হবেন। ক্যাম্পাসে আপনাদের কথা বলার সুযোগ থাকবে না। সুতরাং সবাই অধিকারের জন্য লড়ুন। অন্যায় অন্যায্য বহিষ্কার আদেশের বিরুদ্ধে লড়ুন।’ বহিষ্কৃত অপর শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন তুলেছি বলেই আমাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা পুরোপুরি অযৌক্তিক।’
তারও আগে ১৬ ফেব্রুয়ারিও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফের পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় বহিষ্কৃত ৯ ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ওই মানববন্ধনে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
স্টুডেন্স অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসির মুখপাত্র জগলুল আহমেদ বলেন, ‘প্রক্টরের ফেসবুকের বিতর্কিত পোস্টের কারণে আজ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় লজ্জিত। আপনার (প্রক্টর) কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইজ্জত গেছে। আপনি ক্ষমা চান, না হয় পদত্যাগ করেন। ছাত্ররাই কিন্তু আপনাদের সহকর্মীদের পতন ঘটিয়েছে, নিজের পতন ডেকে আনবেন না। ছাত্রীদের বহিষ্কার আদেশ অবিলম্বে বাতিল করুন।’
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সহকারী প্রক্টরকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও ধর্ম অবমাননার ঘটনায় চবি বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিন কমিটির এক সভায় ১২ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জননেত্রী শেখ হাসিনা হলে ছাত্রীদের সঙ্গে চবির প্রক্টরিয়াল বডির বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কোরবান আলীকে শারীরিক লাঞ্ছনা করেছেন এক ছাত্রী। তবে আরও কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রক্টরিয়াল বডির একাধিক সদস্য ছাত্রীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন।