টানা বৃষ্টিতে পিঙ্গলা-ভাটিখাইন সড়কজুড়ে খানাখন্দ, চলাচলে ভোগান্তি
সাড়ে ৩ কোটির টেন্ডার, দ্রুত মেরামতের আশ্বাস এলজিইডি’র
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের পটিয়ার এলজিইডি’র গ্রামীণ সড়কগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশিয়া-কাশিয়াইশ-বড়লিয়া-ছনহরা ইউনিয়নের সংযোগ পিঙ্গলা টু আশিয়া ইউনিয়ন হয়ে ভাটিখাইন ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ৬ কিলোমিটারের সড়কটিতে গাড়ি চলাচল অনেকটা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার এ জনগুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আরও আগেই। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই একটানা বৃষ্টিতে সড়কটির অবস্থা আরও বেহাল দশা। সড়কটি দিয়ে কয়েকটি ইউনিয়নের চলাচলকারী হাজারো পথচারীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে গত এক সপ্তাহের অতি ও ভারী বর্ষণে এই সড়কটির অধিকাংশ জায়গায় ধস ও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় গাড়ি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। দৃশ্যমান হয়েছে সড়কের ক্ষতবিক্ষত চেহারা। ফেটে-ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে সড়কের বিটুমিন, সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এমন সড়ক দিয়ে কেবল ছোট-বড় গাড়িকেও চলতে হয় হেলে-দুলে। ৬ কিলোমিটারের প্রায় ২ শতাধিক ছোট-বড় গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ সড়কগুলোর নির্মাণ-সংস্কারকাজ টেকসই হয় না, ঠিক থাকে না কাজের মান, ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের উপকরণ। ফলে প্রতি বছর বর্ষায় বৃষ্টি হলেই ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। এ কারণে এলজিইডির বড় অংকের টাকা অপচয় হয়।
আশিয়া মধ্যমপাড়া এলাকার ইউনুস চৌধুরী বাবু বলেন, ‘সড়কটির বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। গর্ত এবং কাদার কারণে সড়কের ওপর দিয়ে লোকজন হেঁটে চলাচল করতে পারছে না। বছরের পর বছর ধরে শুনছি এলজিইডি সড়কটি কার্পেটিং করবে, কিন্তু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।’
ছনহরা ইউনিয়নে বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, ‘এমনিতেই এ সড়কটিতে চলাচল স্বাভাবিক না। দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেহাল দশা। তার ওপর টানা বৃষ্টির কারণে আরও সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। কিছু কিছু অংশে সড়ক ধসে পড়েছে। এ যেন—মরার ওপর খাঁড়ার ঘাঁ।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী কমল কান্তি পাল বলেন, ‘উপজেলার পিঙ্গলা কাশিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আশিয়া বাংলাবাজার হয়ে ভাটিখাইন ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এ গ্রামীন সড়কটি সংস্কারকাজের জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকার টেন্ডার শেষ হয়েছে। দ্রুত এ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। এছাড়াও উপজেলায় এবার টানা বৃষ্টির কারণে এলজিইডিথর গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।’
ডিজে