তরফদারের সাম্রাজ্যে নিলামের হাওয়া, ১৮ কাঠা প্লট বেচে সাড়ে ৭০০ কোটি উসুলের চেষ্টা!
ঋণের সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা আদায় করতে বন্দরভিত্তিক বিতর্কিত ব্যবসায়ী তরফদার মো. রুহুল আমিনের মালিকানাধীন ১৮ কাঠা জমি নিলামে তুলছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। চট্টগ্রামের হালিশহর ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রুহুল আমিনের ওই দুটি প্লটের অবস্থান। তবে দুটি মাত্র বন্ধকী প্লট বিক্রি করে ব্যাংক কিভাবে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা তুলবে— এ নিয়ে যেমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তেমনি ঋণ নেওয়ার সময় প্লট দুটির মূল্যমান বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল কিনা, উঠেছে সেই প্রশ্নও।
আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী হিসেবে তরফদার মো. রুহুল আমিন সমালোচনার মুখে পড়েন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর। যদিও চট্টগ্রাম বন্দরে এখনও তার প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক আগের মতোই বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে এই ব্যবসায়ীর বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) তরফদার মো. রুহুল আমিনের মালিকানাধীন সাইফ পাওয়ারটেকের কাছ থেকে ৫১৭.৭৪ কোটি ঋণের টাকা পাবে। অন্যদিকে তরফদারের মালিকানাধীন কোম্পানি ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের কাছ থেকে ১৯৭.৬৯ কোটি টাকা এবং ম্যাক্সন পাওয়ার লিমিটেড থেকে ৩৯.৮১ কোটি টাকা পাবে ব্যাংকটি।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাতে তরফদার মো. রুহুল আমিন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার জন্য কাজ করছি। আশা করি এটি সমাধান হয়ে যাবে। আমরা নিয়মিত ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করে যাচ্ছি। গত জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি।’
সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন ছাড়াও ঋণগ্রহীতাদের তালিকায় রয়েছেন তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তরফদার নিগার সুলতানা, মেয়ে রুবিয়া চৌধুরী ও তাসনিম তরফদার এবং ছেলে তরফদার মো. রুহুল সাইফ।
যে দুটি বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তোলা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের হালিশহর হাউজিং এস্টেটের জি ব্লক ১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর প্লটের আট দশমিক ২৫ কাঠা এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল নিউ টাউন আবাসিক প্রকল্প এলাকার ৪ নম্বর সেক্টর ৪০৩ নম্বর রোডের ৩৪ ও ৩৬ নম্বর প্লট, যার জমির পরিমাণ ১০ কাঠা।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তরফদার মো. রুহুল আমিন ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে কোনো আগ্রহই দেখাতেন না। তাছাড়া সরকারঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাকে এ বিষয়ে কিছু বলাও যেতো না। বছরের পর বছর ধরে সেই ঋণের টাকা অপরিশোধিতই রয়ে যায়।
বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) কোম্পানি তিনটির বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২০ মার্চ ব্যাংকটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মহাখালী শাখা থেকে জারি করা নিলাম বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়। ২৪ এপ্রিলের মধ্যে মূল্য প্রস্তাব জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে আগ্রহী ক্রেতাদের।
চট্টগ্রাম বন্দরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেকের দীর্ঘদিন ধরে বন্দরটির মোট কনটেইনার পরিচালনার প্রায় ৫৮ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। চট্টগ্রাম ছাড়াও মোংলা ও পায়রা বন্দরে প্রতিষ্ঠানটি কনটেইনার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।
পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত সাইফ পাওয়ারটেক শেয়ারহোল্ডারদের র্নিধারিত সময়ে লভ্যাংশ না দেওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির অবস্থান বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ১০ টাকা ৯০ পয়সা। ব্যাংকের পক্ষ থেকে সাইফ পাওয়ারটেকের সম্পত্তি নিলামে তোলার খবরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ পাঠিয়েছে।
সিপি