লোহাগাড়ার স্কুলে সভাপতি নিয়ে ঝড়, ক্ষুব্ধ মানুষ দাঁড়াল মানববন্ধনে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে এনামুল হককে মেনে নিতে পারছেন না অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, এনামুল হক আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট কেন্দ্র দখলকারী হিসেবে তিনি পরিচিত।

বিতর্কিত এনামুলকে সভাপতি করার পর থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
বিতর্কিত এনামুলকে সভাপতি করার পর থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

গত ২১ আগস্ট পদুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের লালী পাড়ার বাসিন্দা এনামুল হক সম্প্রতি বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনীত হন। এর পর থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন অনেক অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয়
পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয়

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে পদুয়া বাজারে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করে তারা প্রতিবাদ জানান। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন লোহাগাড়া উপজেলা গণতান্ত্রিক যুবদলের সভাপতি শাহজাদা মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন পদুয়া ইউনিয়ন এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল উদ্দিন।

এ সময় বক্তব্য দেন পদুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোবারক আহমদ বাবু, পদুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলমগীর, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ সোহেল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য এহেসান আবদুল্লাহ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল মোহাম্মদ নয়ন, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম সিকদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আমানুল হক, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাবেদ, মোহাম্মদ শফি, মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ হাশেম, উপজেলা গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ আলমসহ আরও অনেকে।

এছাড়া মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পদুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ শামসুল আলম, জাহির আলম, তৌহিদুল ইসলাম, বেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, ছাত্রদল নেতা রহমত উল্লাহ, মাহবুবুর রহমান জিদান, জিহান প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সভাপতির পদে এনামুল হক নিয়ে বিতর্ক

এনামুল হক পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোটকেন্দ্র দখলসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবং আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে তোলা ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে পদুয়া এ সি এম উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ থেকে তাকে অপসারণের দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি।

জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এনামুল হক সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, এমএ মোতালেব, কক্সবাজারের সাবেক এমপি ছরওয়ার কমল এবং লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি নিয়মিত আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে অংশ নিতেন এবং ভোটকেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ধরনের ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের সভাপতির পদে বসানো ‘জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল’।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন, এনামুল হককে সভাপতি করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন একাধিকবার তাকে ফোনে তদবির করেছেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm