স্ত্রীসহ বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের বিপুল সম্পদের হিসাব চায় দুদক

টাকাপাচার ও জবরদখলের অভিযোগ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং তার স্ত্রী আফরোজা বেগমের সম্পদের বিস্তারিত হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৭ আগস্ট) দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে।’

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আহমেদ আকবর সোবহানের দেশে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৫ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ১৮৪ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ২৫২ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ২১৮ টাকা।

দুদক অভিযোগ করেছে, তিনি ও তার স্ত্রী যৌথভাবে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাচার করে ওই দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। এছাড়া সুইজারল্যান্ডের লুগানো, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও আইল অফ ম্যানের কোম্পানির ব্যাংক হিসাব খোলার মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

আফরোজা বেগমের দেশে ১১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ টাকা মূল্যের স্থাবর এবং ৩৩৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৩ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাঁর মোট সম্পদ ৪৫৩ কোটি ১২ লাখ ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা। তিনি ও স্বামীও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে অর্থ পাচার করে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।

দুদক জানিয়েছে, আহমেদ আকবর সোবহান ও তার স্ত্রী নিজেদের নামে বা অন্যের নামে দেশে ও বিদেশে সম্পত্তি অর্জন করেছেন, যা তাদের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

বসুন্ধরা চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, ভূমি জবরদখল, ঋণের অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ স্থানান্তর ও হস্তান্তর এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। এ সংক্রান্তে তাদের দুদকে তলবও করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা বড় ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়েও অনুসন্ধান শুরু করে। এনবিআরের সিআইসি বসুন্ধরা সহ পাঁচ বড় কোম্পানির মালিকদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে।

অক্টোবরে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আহমেদ আকবর সোবহান ও পরিবারের আটজনের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করে। একই মাসে দুদকের আবেদনে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

সেপ্টেম্বর মাসে সিআইডি ১.৫ লাখ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল এবং অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে। এপ্রিলে আদালত বসুন্ধরা চেয়ারম্যান ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব এবং শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেয়।

গত জুনে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন আহমেদ আকবর সোবহানের দুই ছেলে সাফিয়াত সোবহান ও সাদাত সোবহানের যুক্তরাজ্যে পাচার করা সম্পদের তথ্য জানাতে চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm