উখিয়ার ক্যাম্প-১৫ থেকে অপহরণের শিকার এক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া এক সৈনিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়।
রোববার (১৫ জুন) টেকনাফের হ্নীলা রঙ্গীখালী গহীণ অরণ্য থেকে ওই রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয় এবং ওই সাবেক সেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১১ জুন রাত প্রায় ১১টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫-তে বসবাসরত মো. রহিমুল্লাহর ছেলে মো. হাফিজ উল্লাহকে র্যাব পরিচয়ে অপহরণ করে অস্ত্রধারী চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য সুমন, রাকিব ও শিকদার। এ ঘটনায় এনায়েত উল্লাহ ও নবী হোসেন নামে দুই ব্যক্তির যোগসাজশ ছিল বলে জানা গেছে।
উদ্ধার অভিযান শেষে র্যাব-১৫ সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া কর্মকর্তা) সহকারী পুলিশ সুপার আ ম ফারুক এসব তথ্য জানান।
আটকদের মধ্যে মো. সুমন মুন্সি (৩২) গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার ডুমরাকান্দি গ্রামের আকবর আলী মুন্সির ছেলে। তিনি ২০১৯ সালে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য। সন্ত্রাসী সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ইতোপূর্বে ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, হাফিজকে অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থান থেকে সন্ত্রাসীরা ভিকটিমের পরিবারের নিকট ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। সন্ত্রাসীরা ভিকটিমের পরিবারকে প্রশাসনের সহায়তা নিলে হাফিজকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরই প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার বিকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল রঙ্গিখালীতে অপহরণের অন্যতম হোতা ডাকাত সর্দার শাহ আলমের বাড়িতে হানা দিয়ে আফ্রিদি ও আব্দুল গফুর নামে দুজন আটক করে।
এরপর শনিবার বিকালে উখিয়ার মরিচ্যা বাজার থেকে মূল অপহরণকারী বরখাস্ত সৈনিক মো. সুমন মুন্সিকে আটক করা হয়। তার মাধ্যমে হাফিজকে ছেড়ে দিতে অপহরণকারী ডাকাত শাহ আলম, রাকিব এবং শিকদারকে বার্তা পাঠানো হয়। এরপরও হাফিজকে না ছাড়লে ১৫ জুন র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন ও বনবিভাগের ২৫৬ জন লোকবল নিয়ে গহীন জঙ্গলে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। পরে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে হাফিজকে উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৩ রাউন্ড এ্যমুনেশনসহ র্যাবের ইউনিফর্ম ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
ডিজে